বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, ২৫ অক্টোবর থেকে আওয়ামী লীগ সরকার অবৈধ। আমরা এখন থেকে দেশের শাসন মানব। কিন্তু শেখ হাসিনার শাসন মানব না। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানে রূপান্তরিত হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান কোনো আইন মানে না। এই অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকার থাকবে না।
গতকাল শুক্রবার নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে চট্টগ্রামে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর কাজীর দেউড়ি মোড়ে ১৮ দলীয় জোট আয়োজিত সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খোন্দকার, নগর বিএনপির সহ সভাপতি শামসুল আলম ও আবু সুফিয়ান, সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম, বিএনপি নেতা বেগম রোজী কবির, মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী, বিএনপি নেতা লায়ন আসলাম চৌধুরী, গাজী শাহজাহান জুয়েল প্রমুখ। সমাবেশে ১৮ দলীয় জোটের বিভিন্ন শরীক দলের নেতারাও বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশের প্রধান বক্তা মীর মোহাম্মদ নাছিরউদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই সংসদ, সংবিধান ও বিচার বিভাগকে টার্গেট করে। কারণ তারা জানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তাদের প্রার্থীদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, আজ থেকে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে গণ অভ্যুত্থানের সূচনা হল। এখন থেকে সারা দেশ ১৮ দলের দখলে থাকবে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে শাপলা চত্বরে বাতি নিভিয়ে নিরীহ আলেম ওলামাদের গণহত্যার বিচার করা হবে বলে মীর নাছির উল্লেখ করেন। তিনি বর্তমান সরকার বিচারের নামে প্রহসন করছে বলেও মন্তব্য করেন।
সমাবেশের বিশেষ অতিথি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে উত্তাল সমুদ্রের মত গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ জোয়ারে আর নৌকা ভাসিয়ে রাখা যাবে না। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা শপথ লঙ্ঘন করেছেন। যত বাধা বিপত্তি আসুক আমরা আর এ সরকারকে মানবো না। গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ সকল নেতার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।
সভাপতির বক্তব্যে নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করে বলেন, অন্যথায় আগামী ৭ নভেম্বর এ সরকারকে দাফন করা হবে।
কাজীর দেউড়ি মোড়ে সমাবেশে যোগ দিতে দুপুরের পর থেকেই ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে আসতে থাকেন। বেলা ৩টার মধ্যেই জনতার উপচে পড়া ভীড় কাজীর দেউড়ি মোড় ছাড়িয়ে আলমাস সিনেমার মোড়, আশকারদিঘীর পাড় ও নেভাল এভিনিউ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। সমাবেশ উপলক্ষে দুপুর থেকেই এসব সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি সত্ত্বেও লোকজনের আসা যেন সময়ের সাথে সাথে বাড়তে থাকে। জুমার নামাজের পর জনস্রোত সৃষ্টি হয়। প্রথম দিকে জামায়াত ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং জনসভার সম্মুখস্থলে সরব উপস্থিতি জানান দেয়। জুমার নামাজের পর নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের লোকজন ব্যানার ফেস্টুন প্ল্যাকার্ড এবং জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি নিয়ে কাজীর দেউড়ির জনসভায় আসতে থাকে। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মুক্তির দাবিতেও ব্যানার টাঙ্গানো হয়। নগরীর ও জেলার বিভিন্ন মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির নেতৃবৃন্দের ছবি সম্বলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড অনেকে নিয়ে আসে। সামপ্রতিক সময়ের মধ্যে গতকাল কাজীর দেউড়ি মোড়ে অনুষ্ঠিত ১৮ দলের জনসভা ছিল অনেক বড়। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মিছিলে যেমন বাদ্যযন্ত্র ছিল, তেমনি লাঠি, বাঁশ, রড, হকিস্টিকও বহন করতে দেখা যায়। সমাবেশ এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
১৮ দলীয় জোটের এ সমাবেশ নগরীর লালদিঘী ময়দানে হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে আওয়ামী লীগ পাল্টা সমাবেশ আহ্বান করায় সংঘাত এড়াতে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে নগরীতে সভা সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুল ইত্তেফাককে বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাস করে। আমরা চাই সব দলই মত প্রকাশের সমান সুযোগ পাক। তাই গণতন্ত্রের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে আমরা শহীদ মিনারে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি।
নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ইত্তেফাককে জানান, বিএনপিকে কাজীর দেউড়ি মোড়ে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তিনি বিলম্বে হলেও পুলিশের শুভ বুদ্ধির উদয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
