পথে-ঘাটে

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩১
জুমার নামাজ শেষ। বাইরে ঝির ঝির বৃষ্টি। নামাজ শেষ হতেই দু-একজন করে মসজিদ থেকে বের হতে শুরু করেছেন। পেছনের সারিতে ছোট ছোট জটলা। এসব জটলায় পরিচিতদের মধ্যে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি কথোপকথন কানে ভেসে এল। অনেকে মসজিদ থেকে বের হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আলোচনায় মশগুল। -জেলায় জেলায় মারামারি না বাঁধে। -এখনইতো বেঁধে গেছে। -চলবে এমনই। -যারা বাড়াবাড়ি করেছে তাদের ছাড়বে নাকি? -বিএনপি’র অনেক নেতা-কর্মীকে বাড়ি থাকতে দেয়নি। তারা এখন ফিরে আসতে শুরু করেছে। -একদল পালাবে আর একদল আসবে। তবে আওয়ামী লীগ শক্ত আছে। পালানোর লোক কম। -পালানোর সময় এখনো আসেনি। ওটা নির্বাচনের আগে যারা বুদ্ধিমান তারা পালাবে। আর এখন যারা অতিরিক্ত করেছে, আবার ভীতু—তারা পালাবে। -কয়েকটি জেলায় সকাল থেকে মারামারি লেগে গেছে। -যারা অতি উত্সাহী তাদের মধ্যে এসব হচ্ছে। -রাজধানীতে কিছু হবে না। হ্যাঁ। এখানে কিছু না হলেই চলে। এখানে হলে মফস্বল শহর রক্ষা করা যাবে না। সংক্রামক ব্যাধির মত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে। তখন আর নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। -এতবড় একটা ব্যাপারে কিছুতো অঘটন ঘটবেই। সব কিছু গায়ে মাখতে নেই। -অবৈধ সরকার বলে তো ঘোষণাই দিয়ে দিছে। আর কি! -ওটা শুধু বলার জন্য বলা। মাঠ গরম করার কথা। জটলা পরিবর্তন করে দেখা গেল আলোচনার বিষয় একই। -শেখ হাসিনা তো খালেদা জিয়াকে ফোন করবে। ফোন করলে একটা সমাধানের দিকে যাবে। -কিছুই হবে না। দুজনে বসবে হয়তো। কিন্তু আলোচনা শেষে দুজন দু’রকম কথা বলবে। -আজ পর্যন্ত কোন লক্ষণ পাওয়া গেছে? কেউ কারো অবস্থান ছেড়েছে? -না না। এখন আর আগের অবস্থান এক না। আগে তো কোন একটা দাবির বিষয় ছিল। আর এখন ক্ষমতা। ক্ষমতা পাওয়ার জন্য বড় বড় ছাড় দেবে। তবে নিশ্চিত হয়ে নেবে আর কি! নিজের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তারপর দুজনই ছাড় দেবে। আর এ ছাড় দেয়া আর নিশ্চিত হওয়ার মধ্যে শেষে গিয়ে যে অবস্থান পাকা করতে পারবে—তার জয়। -আগে তো দুজনেরই শিক্ষা আছে, যে এসব করে ক্ষমতায় থাকা যায় না। তাহলে আবার কেন করে? -এবার দুজনেরই ভয় আছে। দুজন মিলে ঝামেলা করবে আর অন্য কেউ আসবে। সেই সুযোগ দুজনের কেউ দেবে না। এজন্য এখনো বড় কোন অঘটন ঘটেনি। আর ঘটবেও না। আর এজন্যই ভেবে-চিন্তে দুজনই ছাড় দেবে। আর এক জটলায় প্রায় একই আলোচনা। -কে প্রধান হবে সেটা ঠিক হলেই আর কোন সমস্যা নেই। বাকি সব তো দুদলই ঠিক করে দিয়েছে। বাকি সিদ্ধান্তে আর কারো আপত্তি নেই। খালেদা জিয়াও সংসদ সদস্যদের মধ্যে থেকে পাঁচজন নির্বাচন করতে রাজি হবে। -আর শেখ হাসিনা তো সেই প্রস্তাব-ই দিয়েছে। ঝামেলা এখন শুধু প্রধান নিয়ে। -হাসিনা ছেড়ে দিতে পারে। রাষ্ট্রপতিকে দায়িত্ব দিতে পারে। -পাঁচ পাঁচ দশ হলে অন্য দলগুলো কি করবে? তাদের কোন প্রতিনিধি না নিলে তো সমস্যা। -ওটাতে সমস্যা হবে না। অন্যরা মেনে নেবে। তাদের থেকে দরকার হলে আরো দুজন নিয়ে নেবে। এর আগে নামাজ শেষে হুজুর মোনাজাতে দেশ ও জাতীর জন্য দোয়া করলেন। বললেন, আল্লাহ তুমি দেশে শান্তি প্রতিষ্টা কর। বিশৃঙ্খলা রোধ কর। মানুষের মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় ঘটাও। দেশকে হানাহানি থেকে রক্ষা কর। মানুষের জান-মালের রক্ষা কর। সবার মনে স্বস্তি ফিরিয়ে দাও। ... ইত্যাদি ইত্যাদি।