হরতালের রাজনীতি পরিহার করে গণতন্ত্র, শান্তি ও সমঝোতার পথে আসার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। গতকাল শুক্রবার বিকালে বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার বক্তব্যের পর সন্ধ্যায় ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগেরপ্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে আরো বলেন, হরতাল নামক অস্ত্র থেকে দেশকে মুক্তি দিন। শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়ে আলোচনায় বসুন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিন।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আমাদের জাতিগত মুক্তির তীর্থভূমি হিসাবে পরিচিত ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত-শিবির, রাজাকার-আলবদরদের নিয়ে গতকাল খালেদা জিয়া সমাবেশ করায় আমাদের লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার প্রতি অবমাননা করা হয়েছে। বাঙালি জাতি স্বাধীনতার জন্যে শত্রু হননে রক্তশপথ নিয়েছিল যে স্থানে, সেখানে দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়া স্বাধীনতা বিরোধী নরঘাতক, যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তির দাবি করেন। এটা জাতির জন্য বড় অপমানজনক। ভবিষ্যত্ প্রজন্ম এই অপরাধের দায়ভার থেকে খালেদা জিয়াকে রেহাই দেবে না। মোহাম্মদ নাসিম বিএনপি ও স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আওয়ামী লীগের গণতন্ত্রের উপর আস্থা আছে বলেই বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে তারা সমাবেশ করতে গিয়ে শর্তভঙ্গ করে উদ্যানের বাইরে সমাবেশ করেছে। সরকারের উন্নয়নের প্রচার সংবলিত বিলবোর্ড ভেঙ্গেছে। সাংবাদিকদের হুমকি দিয়েছে। ক্যামেরাম্যানদের স্বাভাবিক তত্পরতাকে ভয়-ভীতি দেখিয়েছে।
বিরোধী দলীয় নেতাকে সংবিধান পড়ার পরামর্শ দিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আপনি কথায় কথায় আমাদের অবৈধ বলেন, আপনি কি সংবিধান পড়েছেন? জনগণের ম্যান্ডেট অনুযায়ী ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত আমাদের সরকার বৈধভাবে ক্ষমতায় থাকবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, খালেদা জিয়া সময় দেয়ার কে? জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। সংবিধান আমাদের সময় দিয়েছে। বিরোধী দল আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে আশাবাদ ব্যক্ত করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিরোধী দল পল্টন ময়দান ছেড়ে যেহেতু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করেছে, সুতরাং শেখ হাসিনার অধীনে আগামী নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করবে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল আলম হানিফ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, বিমানমন্ত্রী কর্ণেল (অব.) ফারুক খান, দপ্তর সম্পাদক ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাসিম, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য একেএম এনামুল হক শামীম প্রমুখ।
