আধ্যাত্মিকতা কী?

আপডেট : ১৯ মে ২০১৯, ২১:৫৮

আধ্যাত্মিকতার অর্থ নির্দিষ্ট কোনো কিছুর অনুশীলন নয়। এটি হলো নিজেকে বিকশিত করার একটি পথ। একটি বিশেষ স্তরে পৌঁছানোর জন্য করণীয় অনেক কিছু আছে। এটি আপনার বাড়ির চৌহদ্দির মধ্যে বাগানকে বড় করে তোলার মতো। যদি গাছের চারাটি, তার মাটি, সূর্যের আলো যথাযথ না হয়, গাছটি ফুল দেবে না। আপনাকে ওই জিনিসগুলোর যত্ন নিতে হবে। একইভাবে, যদি আপনার শরীর, মন, আবেগ ও শক্তিকে পরিচর্যার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট পরিণত স্তরে নিয়ে আসতে পারেন, তা হলে আপনার মধ্যে অন্য কিছু বিকশিত হয়ে ওঠে। সেটিই আধ্যাত্মিকতা।       

মানুষ বলেন যে, তাদের আধ্যাত্মিক অনুভব হয় যখন তারা সমুদ্রে কিংবা পাহাড়ে যান। সমুদ্র এবং পাহাড় সুন্দর হতেই পারে, আপনি অবশ্যই এই পৃথিবীকে তার মতো করে উপভোগ করুন, কিন্তু আপনাকে এটা বুঝতে হবে যে, সমুদ্রে থাকা মাছটি এটাকে আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা বলে ভাবে না, অথবা পাহাড়ে চরা ছাগলটিও পাহাড়কে আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা বলে মনে করে না, কারণ তারা সেখানেই থাকে সব সময়। যদি তাদের শহরে নিয়ে আসেন, তবে সেটাকে তারা আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা বলে ভাবলেও ভাবতে পারে।    

মূলত যা ঘটেছে তা হলো, আপনার মধ্যে কিছু বাধা ভেঙে গেছে। আপনি ছিলেন একটি খোলের মধ্যে। এটা ভেঙে গিয়ে আরও একটি বড় খোল তৈরি হয়ে গেছে। যেই মুহূর্তে আপনি এই বড় খোলটির সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন, এটিকেও আগের মতোই বলে অনুভব করবেন। কতখানি প্রসারণ আপনাকে চিরকালের জন্য থিতু করবে? এমনকি যদি আপনাকে এই গ্রহটির রাজা কিংবা রানি করে দেওয়া হয়, তার পরেও আপনি নক্ষত্রদের দিকে তাকিয়ে থাকবেন, কারণ আপনার মধ্যে এমন একটা কিছু আছে যেটা সীমানাকে পছন্দ করে না। প্রত্যেকটি মানুষই অপরিসীম হয়ে ওঠার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। তাকে যদি তার চাহিদার সবটুকুই মিটিয়ে দেন, তিনি ভালো থাকবেন তিনদিনের জন্য। চতুর্থ দিনেই তিনি অন্য কিছুর দিকে তাকাতে শুরু করবেন। কেউ এটাতে লোভের তকমা সেঁটে দিতে পারেন। আমি বলি, এটা জীবনেরই প্রক্রিয়া, যেটা বেঠিক দিশায় চলে গেছে।

যদি আপনি অপরিসীম হয়ে উঠতে চান এবং ভৌত উপায়ের মাধ্যমে তার প্রয়াস করেন, সেক্ষেত্রে মূলত আপনি ধাপে ধাপে অসীমের দিকেই যেতে চাইছেন। এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ করে গুনতে গুনতে কোনোদিন কি ইনফিনিটি বা সেই অনন্ত সংখ্যাটিকে গুনতে পারবেন? অনিঃশেষ আপনাকে গুনে যেতে হবে। পদ্ধতি ওটা নয়। যদি আপনি অনন্ত প্রকৃতিকে জানতে চান, অবশ্যই আপনাকে এমন কিছুকে উপলব্ধি করতে হবে যা ভৌত অস্তিত্বের নাগালের ওপারে এমন কিছু, যাকে আপনি স্পর্শ করে থাকতে পারেন যখন সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েছেন, একটি পর্বতকে দেখেছেন বা একটি গান গেয়ে উঠেছেন। নানাভাবে আপনি এটাকে স্পর্শ করে থাকতে পারেন। কিন্তু, প্রশ্ন এখন, তার স্থায়িত্ব নিয়ে।

অতীব সহজ কিছু আত্মগত প্রযুক্তি আছে, যা আসলে একটি সরল অনুশীলন, যেখানে আপনি দিনের মাত্র ২১ মিনিট ব্যয় করেই, নিজের ভিতরে এমন এক বিস্ময়কর আধ্যাত্মিক অনুভূতিকে সঙ্গী করে দিনটি শুরু করতে পারেন, যা আপনাকে শান্তি ও আনন্দে পরিপূর্ণ করে রাখবে সারাদিন জুড়ে। ওটা ছাড়াও, এটাকে বজায় রাখতে গেলে যে সহজ জিনিসটি প্রতিটি মানুষকে করতে হবে, তা হলো, কোনো কিছুর সঙ্গে আপনার একাত্ম হওয়ার বোধটিকে বৈষম্যহীন করতে হবে। কোনো ব্যক্তিকে দেখুন, গাছকে দেখুন বা মেঘের দিকে তাকান, আপনার একাত্মতার বোধটি সব ক্ষেত্রেই যেন সমান হয়। যেন আপনার নিজের শরীর এবং শ্বাস, উভয়ের সঙ্গেই আপনি সমভাবে একাত্ম হয়ে থাকেন। কোনটি বেশি ভালো—এই বলে ভেদাভেদ যদি না করেন এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই যদি সমানভাবে একাত্ম হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি প্রতিনিয়তই আধ্যাত্মিক হয়ে যাবেন। আধ্যাত্মিকতা বিষয়ক কোনো কিছুই শেখানোর প্রয়োজন হবে না আপনাকে।

nসৌজন্যে :ঈশা ফাউন্ডেশন