নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশ এবং আওয়ামী লীগের মাঠে থাকার ঘোষণায় গতকাল শুক্রবার রাজধানী ছিল থমথমে। সঙ্গে দিনভর ছিল গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। ফলে গতকাল ভোর ৬টা থেকে রাজধানীর রাজপথ প্রায় ফাঁকাই ছিল। বেলা ১১টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন ছিল না বললেই চলে। যানবাহনের সংখ্যা যেমন কম তেমনি যাত্রী ছিল হাতেগোনা। তবে রিকশার দখলে ছিল গোটা রাজধানী।
গতকাল সকাল থেকেই যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কঠোর অবস্থানে ছিলেন। একজন বাসচালক বললেন, যাত্রী একেবারেই কম। হরতালেও এতো কম যাত্রী নিয়ে গাড়ি চালাইনি। আরেক বাসচালক বলেন, আমরা রাজনীতি বুঝি না। কাজ করে পেট চালাতে হয়। রুজি না হলে বউ-বাচ্চা না খেয়ে থাকবে।
গতকাল বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করেছে ১৮ দল। নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এই সমাবেশ। সরকারের শেষ সময়ে এই সমাবেশ নিয়ে রাজধানীসহ সারা দেশে ছিল উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা। তবে শেষ পর্যন্ত কিছু হয়নি। গতকাল এমনিতেই ছিল শুক্রবার, তার উপর ছিল বৃষ্টি। তাই খুব দরকার না হলে কেউ রাস্তায় বের হননি। ফাঁকা রাজধানীতে যারা জীবিকার তাগিদে বের হয়েছিলেন তাদের চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। মোড়ে মোড়ে ছিল পুলিশের চেকপোস্ট আর তল্লাশি।
ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাবেশ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। রাজধানীতে পুলিশের শতাধিক টিম টহল দিয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে ছিল পুলিশ। এছাড়া বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নেমেছিল রাজপথে। টহল দিয়েছে র্যাব সদস্যরাও। পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হাসান সরকার বলেন, ঢাকা শহরে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ সতর্ক পাহারা দিয়েছে। এসব সতর্কতার কারণে কোন অঘটন ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।
