বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অফিস কর্মচারীদের জন্য অসুস্থতা জনিত ছুটি বেশ স্বাভাবিক একটি বিষয় হলেও এর ব্যবহার নিয়ে নানা সময় দেখা দেয় নানা সন্দেহ আর সংশয়। বিশেষ করে অসুস্থতাজনিত ছুটি নিয়ে যারা অফিস আসা থেকে বিরত থাকেন তারা আসলেই কতটা অসুস্থ সে নিয়ে সংশয়ে থাকেন অনেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাই। আর এই সংশয় বা সন্দেহকে আরেকটু বাড়িয়ে দিতেই এবার অভিনব এক জরিপের ফল প্রকাশ করেছে চাকরি বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্যারিয়ার বিল্ডার। স্বেচ্ছা অংশগ্রহণের ভিত্তিতে পরিচালিত এই জরিপের বিভিন্ন প্রশ্নে অংশ নেন প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কর্মচারী ও ম্যানেজার। আর মজার বিষয় হলো এদের এক-তৃতীয়াংশই জানিয়েছেন যে অসুস্থতার কথা বলে ছুটি নেওয়ার দিনটিতে তারা আসলে অসুস্থ ছিলেন না। বরং অন্য কোনো কাজের কারণে বা সকাল বেলা ঘুম থেকে ওঠার পর স্রেফ অফিসে যেতে ইচ্ছা না করার কারণেই অসুস্থতাজনিত ছুটি কাটিয়েছেন এসব কর্মী ও ম্যানেজাররা। এ ছাড়া অফিসে না আসার পেছনে অভিনব নানা অজুহাতের মধ্যে ছিল ট্যাক্সিতে করে আসার সময় বাঁধানো দাঁত হারিয়ে ফেলা, রাতে অতিরিক্ত খাবার কারণে সকালে বেশি ঘুম হওয়া, নকল চোখ অক্ষিকোটর থেকে পড়ে যাওয়া বা ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার ফলে মেজাজ খারাপ হওয়ার মতো হাস্যকর সব কারণ। যদিও এভাবে অসুস্থতার অজুহাতে ছুটি নেওয়ার পেছনে যত হাস্যকর কারণই থাকুক না কেন ব্যবসা কিংবা প্রতিষ্ঠানের ওপর এর প্রভাব কিন্তু মোটেও কম নয়। এ প্রসঙ্গে কর্মচারীদের উপস্থিতি-অনুপস্থিতি নিয়ে কাজ করা শিকাগোভিত্তিক সংগঠন প্যাসিফিক রিসোর্সেসের কোর বেনিফিটস বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিসিয়া প্রুডি জানান, এ ধরনের অনুপস্থিতির কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোকে গড়পরতা তাদের বেতন ফান্ডের ৩৫ ভাগ পর্যন্ত ভর্তুকি দিতে হয় যা মূলত ব্যয়িত হয় ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য অন্যদের বাড়তি সময় কাজ করানোর বিল মেটাতে কিংবা অসুস্থ কর্মীদের পরিবর্তে খণ্ডকালীন সময়ের জন্য নতুন কর্মী নিয়োগে। এদিকে এ ধরনের মিথ্যা অজুহাতে ছুটি কাটানো যে কর্মীদের ক্যারিয়ারের জন্যও সমান ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে তাও উঠে এসেছে ক্যারিয়ার বিল্ডারের জরিপে। এতে শতকরা ১৬ ভাগ নিয়োগদাতা মিথ্যা অসুস্থতার অভিযোগে ছুটি নেবার কারণে তাদের কোনো না কোনো কর্মীকে ছাটাই করার কথা জানিয়েছেন।
