ডিসেম্বরের শুরুতে পঞ্চগড় চিনিকলের মাড়াই মৌসুম শুরু হচ্ছে। কিন্তু উত্পাদিত চিনি সংরক্ষণ নিয়ে বিপাকে পড়েছে পঞ্চগড় চিনিকল কর্তৃপক্ষ। গত দু’বছরের ৬ হাজার টন চিনি অবিক্রিত থাকায় গুদামে তীল ধারণের জায়গা নেই। চলতি ২০১৩-১৪ মৌসুমে উত্পাদিত চিনি রাখার কোন জায়গা নেই। এ বছর ৭৫ হাজার টন আখ মাড়াই করে প্রায় ৫ হাজার টন চিনি উত্পাদনের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৬ হাজার টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন চিনিকলের সংরক্ষণাগারে বর্তমানে ২০১১-১২ মৌসুমের ১ হাজার ৮শ টন ও ২০১২-১৩ মৌসুমের ৪ হাজার ২শ টনসহ মোট ৬ হাজার টন চিনি মজুদ রয়েছে। যার মূল্য ৩০ কোটি টাকা। মজুদ চিনির কারণে নতুন চিনি রাখার ব্যাপারে সমস্যা দেখা দেবে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন থেকে সংরক্ষণাগারে পড়ে থাকার কারণে চিনির গুণগতমান খারাপ হয়ে যাওয়ার জন্য চিনিকলকে লোকসান গুণতে হবে।
সংশ্লি¬ষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র মতে, ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের চিনির চেয়ে দাম বেশি হওয়ায় ডিলার ও ব্যবসায়ীরা চিনিকলের চিনি ক্রয় করছেন না। পঞ্চগড় চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এসএম আব্দুর রশীদ বলেন, চিনি বিক্রি না হওয়ার জন্য সংরক্ষণাগারে নতুন উত্পাদিত চিনি রাখা নিয়ে প্রকট সমস্যা দেখা দেবে। এ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
মধুখালী (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, মধুখালীতে অবস্থিত ফরিদপুর চিনিকলে ৩৩ কোটি ২০ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার চিনি অবিক্রিত অবস্থায় গুদামে পড়ে রয়েছে।
চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, ২০১১-২০১২ মাড়াই মৌসুমের ৭৭ দশমিক ৮০ টন এবং ২০১২-২০১৩ আখ মাড়াই মৌসুমের ৬ হাজার ৫৬৩ টন চিনিসহ মোট ৬ হাজার ৬৪০ দশমিক ৮০ টন চিনি গুদামে মজুদ রয়েছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৩৩ কোটি ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ দিকে মিলটি এ পর্যন্ত ৯০ কোটি টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে প্রতিবছর প্রায় ৯ কোটি টাকা সুদ গুণতে হচ্ছে।
এদিকে আগামী ১৫ নভেম্বর ২০১৩-২০১৪ আখ মাড়াই মৌসুম শুরু করা হবে বলে প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে। আগামী মাড়াই মৌসুমের উত্পাদিত চিনি গুদামে রাখার কোন ব্যবস্থা নেই। পুরাতন চিনি বিক্রি না হলে চিনি রাখার জন্য আলাদা গুদামের প্রয়োজন হবে। দু’মাড়াই মৌসুমের ওই বিপুল পরিমাণ চিনি অবিক্রিত থাকায় চিনিকল কর্তৃপক্ষ চিন্তিত রয়েছেন।
চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মো. ইলিয়াচ সিকদার জানান, বর্তমান বাজার মূল্য বিবেচনা করে চিনিগুলো বিক্রি করা প্রয়োজন। চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমজাদ হোসেন জানান, সরকারি চিনিকলের চিনির বাজার মূল্য বেশি হওয়ায় চিনি বিক্রি না হওয়ার প্রধান কারণ।
পাবনা সুগার মিলের লোকসান ১৩০ কোটি টাকা
ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, পাবনা সুগার মিলে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩০ কোটি টাকা। লোকসানের ভারে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে মিলটি। জন্মের পর হতে লাভ হওয়া তো দূরের কথা ক্রমাগত লোকসান গুণতে গুণতে আজ পাবনা সুগার মিল করুণ পরিণতির শিকার। ১৯৯২ সালে দাশুড়িয়া ইউনিয়নে ৬০ একর জমির উপর মিলটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
এ বিষয়ে পাবনা সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমল কান্তি সরকার বলেন, প্রয়োজনীয় আখ স্বল্পতার কারণে মিলটিকে লোকসান দিতে হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী আখ পাওয়া গেলে লোকসান কমে আসবে।
