দুই মা ও দুই পুত্রকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতি

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩০
বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যত নির্ভর করছে দুই মা এবং দুই পুত্রের উপর। যদিও দুই পুত্রের কেউই দেশে থাকেন না। কিন্তু দেশের রাজনীতিতে তাদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। বাংলাদেশে রাজনীতি এই চারজনকে ঘিরেই পরিচালিত হয়। গতকাল শনিবার বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এর এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় (৪২) একজন প্রযুক্তি পরামর্শক যিনি স্ত্রী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বাস করছেন। অন্যজন বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান (৪৬) যিনি লন্ডনে আইন বিষয়ে পড়ালেখা করছেন। তিনি স্বেচ্ছা নির্বাসিত এবং দেশে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এরা দুইজনই ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। কারণ স্বাধীনতার পর এদের পরিবার দেশ পরিচালনা করছে। কেবল মাঝখানে সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদ ক্ষমতায় ছিলেন। শেখ হাসিনা এবং বেগম খালেদা জিয়া একত্রে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলন করে ১৯৯০ সালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দুই নেত্রীর সন্তান বিদেশে থাকলেও তারা রাজনীতিতে প্রভাব রাখছেন। জয় সমপ্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকা সফর করেছেন। জনগণ তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আর তারেক রহমান লন্ডনে থাকলেও তিনশ সংসদীয় আসনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে তিনিই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি লন্ডনে দলের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে তিনি সৌদি আরবও গেছেন। ২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তাকে নির্যাতন করার অভিযোগ রয়েছে। আগামী সাধারণ নির্বাচনে তারা তাদের মায়ের পক্ষে ব্যাপক প্রভাব রাখবেন। তার মা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিনি ২ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেণেড হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্য একটি আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফাতারি পরোয়ানা জারি করেছে। যদিও তার দল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, সরকার খালেদা জিয়ার পরিবারের সম্মান নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক হাসান শাহরিয়ার বলেন, এদের প্রভাব অপরিসীম। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই দুই পরিবারের বাইরে কাউকে উচ্চপদে উঠে আসা অসম্ভব। তবে কলেজ ছাত্র মাজহারুল ইসলাম বলেন, এটা তো রাজতন্ত্রের দেশ নয়। তাহলে তাদের মতো কি অন্য কোনো মানুষ নেই যারা আমাদের শাসন করতে পারে। শাহরিয়ার বলেন, দক্ষিণ এশিয়াতেই এই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তানের দিকে তাকালেই একই চিত্র দেখা যাবে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। তিনি বলেন, উত্তরাধিকারের রাজনীতি খারাপ নয়, যদি নেতৃত্ব ভাল হয়। শেখ হাসিনার সহযোগী মাহবুব হক শাকিল বলেন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ। জনগণ চাইলে জয় একদিন প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং অবশ্যই হবেন। বিএনপি সমর্থক জামিলুর কাদির বলেন, তারেক রহমান স্বচ্ছ ভাবমূর্তি নিয়ে একদিন বীরের বেশে দেশে ফিরবেন। এটা কেবল সময়ের ব্যাপার। তিনি একজন সাবেক প্রেসিডেন্টের সন্তান এবং তার মা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের জন্য অনেক কিছুই করেছেন।