আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য, প্রবীন পার্লামেন্টারিয়ান তোফায়েল আহমেদ আল্টিমেটাম ও হরতাল প্রত্যাহার করে সংলাপের পথে ফিরে আসার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশে যখন সংলাপের সুবাতাস বইছে ঠিক তখনই বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া আল্টিমেটাম ও হরতালের ডাক দিয়ে সেই পরিবেশকে নষ্ট করেছেন। আল্টিমেটাম, শর্ত ও হুমকির মুখে কখনো সংলাপ হতে পারে না। হরতাল প্রত্যাহার করে নিলেই সংলাপে বসতে ১৪ দল রাজি।
গতকাল শনিবার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের তত্ত্বাধায়ক সরকার থেকে ১০ জন উপদেষ্টা নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকারের যে প্রস্তাব খালেদা জিয়া দিয়েছেন, তা ‘অসাংবিধান’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, আগামী নির্বাচনকালীন সরকার প্রধান শেখ হাসিনাই থাকবেন। ‘বর্তমান সরকার অবৈধ’ মর্মে বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, উনার মনের মধ্যে কী আছে, জানি না। উনার কথায় সন্দেহ দেখা দিয়েছে। উনি কাকে আমন্ত্রণ জানাতে চাচ্ছেন? নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে সংসদে নিয়মানুযায়ী প্রস্তাব তোলার জন্য বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সোহরাওয়াদী উদ্যানকে বিরোধী দলীয় নেতা কলুশিত করেছেন উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাড়িয়ে যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তির দাবি করে শিখা চিরন্তরের চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং এই উদ্যানকে কলঙ্কিত করেছেন খালেদা জিয়া। প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যায় বিরোধী দলীয় নেতাকে টেলিফোন করবেন বলে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত যে বক্তব্য দেন সে প্রসঙ্গে তোফায়েল আহমেদ বলেন, এটা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ব্যক্তিগত মতামত।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বিরোধী দলীয় নেত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন তা বজায় রাখার চেষ্টা করুন। তিনি বলেন, ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় থাকার অধিকার দিয়েছে জনগণ। বর্তমান সরকারকে অবৈধ বলার অধিকার কারও নেই।
এর আগে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া, ওয়ার্কাস পার্টির পলিটব্যুরর সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, উপ-দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম আমিন, ইকবালুর রহীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র জানায়, ‘প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যায় বিরোধী দলীয় নেতাকে টেলিফোন করবেন’ মর্মে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বক্তব্যে সমালোচনা করে ১৪ দলের নেতারা বলেন, এভাবে কথা বললে সমন্বয়হীনতার প্রকাশ ঘটবে। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, টেলিফোন করা উনার (শেখ হাসিনা) ইচ্ছা। তিনি কখন টেলিফোন করবেন, তা তিনিই ঠিক করবেন।
