কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভে আধুনিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব

আপডেট : ১৯ মে ২০১৯, ২২:২০

বনবিভাগের কাছে ১৮৮ একর জমি চেয়েছে কউক

সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের মেরিন ড্রাইভের কলাতলী দরিয়ানগর থেকে হিমছড়ি পর্যন্ত দীর্ঘ ৫ কিলোমিটার পাহাড় ঘিরে অত্যাধুনিক ইকো-ট্যুরিজম পর্যটন কেন্দ্র গড়তে চায় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। সাগর তীরবর্তী এসব পাহাড় ও বনাঞ্চলের ক্ষতি না করে চট্টগ্রামের ফয়স লেকের চেয়েও আধুনিক পার্ক গড়ে বিশ্বের বুকে কক্সবাজার পর্যটনকে অনন্য উচ্চতায় দাঁড় করানোই এর লক্ষ্য। এটি বাস্তবায়নে বন বিভাগের ১৮৮ একর জমি চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠিয়েছে কউক। আর আধুনিক ইকো-ট্যুরিজম চালুর প্রস্তাবকে ইতিবাচক ভেবে নীতিগতভাবে বিবেচনায় নিয়েছে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ।

বনবিভাগ সূত্র মতে, কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের হিমছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তার নেতৃত্বে একদল কর্মী গত ১৪ মে কউকের ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র গড়ার জন্য প্রস্তাবিত জমি পরিমাপ করেন। প্রাথমিকভাবে বনবিভাগের কলাতলী পিকনিক স্পট (দরিয়ানগর পার্ক) থেকে পার্শ্ববর্তী বড়ছড়া খালের দক্ষিণ পশ্চিম অংশজুড়ে হিমছড়ি পর্যন্ত পাহাড়গুলো এ প্রস্তাবের আওতায় রাখা হয়েছে।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব) ফোরকান আহমদ বলেন, কলাতলীর দরিয়ানগর থেকে হিমছড়ি পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভের উভয়পাশে দীর্ঘ ৫ কিলোমিটার পাহাড় ঘিরে একটি পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র গড়তে চায় কউক। সাগর তীরবর্তী এসব পাহাড় ও বনাঞ্চলকে ঘিরে ফয়স লেকের চেয়েও অত্যাধুনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে উক্ত এলাকার ১৮৮ একর জমি বরাদ্দের আবেদন করা হয়েছে। অত্যাধুনিক এ ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার চালুর প্রস্তাবটি নীতিগতভাবে বিবেচনায় নিয়েছে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ।  তিনি আরো বলেন, জমি বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রকল্প গ্রহণ, ব্যয় নির্ধারণ ও পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। ইকো-ট্যুরিজমের সঙ্গে সৈকত তীরে দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্যসহ স্থাপত্য তৈরি করে সৌন্দর্য বর্ধন করা হবে। থাকবে পরিচ্ছন্ন পিকনিক স্পট।

এ বিষয়ে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) হুমায়ুন কবির বলেন, কলাতলী বিটের ১৭৪ একর ও পার্শ্ববর্তী হিমছড়ি বিটের ১৪ একর জমি নিয়ে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ একটি ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার চালু করতে চায়। বনাঞ্চল, পাহাড় ও পরিবেশে ক্ষতি না করেই তারা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করায় বনবিভাগ বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই বিবেচনা করছে। আশা করি তাদের কাছে বনাঞ্চল ও পাহাড় যথাযথভাবে সংরক্ষিত থাকবে। তবে অপর একটি সূত্র বলছে, যেসব পাহাড় কউকের কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে সেখানে ২০১১-১২ ও ২০১৩-১৪ সালে সামাজিক বনায়নের আওতায় বনাঞ্চল সৃষ্টি করে ১৮৮ জন উপকারভোগীর কাছে ১০ বছরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। কউককে বরাদ্দ দেওয়া হলে উপকারভোগীরা  ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

দরিয়ানগর-হিমছড়ি সামাজিক বনায়ন সমিতির সভাপতি আবদুল খালেক বলেন, আমরা অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বনবিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে বাগান গড়ে তোলা, পাহারাসহ নানাভাবে গাছপালা বড় করে তুলেছি। এখন উপকারভোগীদের ক্ষতিপূরণ ছাড়া সেই জমি অন্যত্র বরাদ্দ দেওয়া হলে তা রদ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দারস্থ হব। তবে পর্যটনের স্বার্থে আমরাও চাই এখানে দৃষ্টিনন্দন ইকো-ট্যুরিজম গড়ে উঠুক।