প্রখ্যাত সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী আর নেই

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৪৯
প্রখ্যাত সাংবাদিক, জাতীয় প্রেস ক্লাব ও বিএফইউজের সাবেক সভাপতি গিয়াস কামাল চৌধুরী আর নেই। শনিবার ভোরে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহে...রাজেউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন ও জানাজার জন্য মরহুমের মরদেহ দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আনা হয়। সেখান থেকে কফিন নিয়ে যাওয়া হবে মরহুমের গ্রামের বাড়ি ফেনীতে। সেখানে জানাজার পর পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করার কথা। কয়েক বছর আগে তার মাথায় প্রচণ্ড আঘাতজনিত কারণে ব্রেন হেমারেজ হয় এবং তখন থেকে তিনি অসুস্থ ছিলেন। দীর্ঘদিন বাসায় শয্যাশায়ী থাকার পর অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আইসিইউতে ১৬ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সাংবাদিক হিসেবে গিয়াস কামাল চৌধুরী বর্ণাঢ্য জীবন অতিবাহিত করে গেছেন। স্বাধীনতা যুদ্ধসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সাংবাদিকতা পেশার উত্কর্ষ সাধন এবং পেশার আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল অনন্য। দীর্ঘদিন ভয়েস অব আমেরিকার (ভোয়া) ঢাকা সংবাদদাতা হিসেবে তিনি ছিলেন অতি পরিচিত। সাংবাদিকতায় অনন্য ভূমিকার জন্য তিনি রাষ্ট্রীয় একুশে পদকে ভূষিত হন। ১৯৬৪ সালে ইত্তেফাক গ্রুপ থেকে প্রকাশিত ঢাকা টাইমস পত্রিকায় সাংবাদিকতার মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়। খালেদা জিয়ার শোক বেগম খালেদা জিয়া তার শোকবার্তায় বলেন, গিয়াস কামাল চৌধুরীর সাংবাদিকতার ভিত্তি ছিল তার স্বাধীন বিবেক। তার শানিত লেখনিতে তিনি নাগরিক স্বাধীনতার প্রশ্নে, মানুষের মৌলিক মানবাধিকার প্রশ্নে কখনো আপোষ করেননি। তিনি রাজরোষে পড়ার পরও নির্ভীক চিত্তে সংবাদ পরিবেশন করেছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোকবার্তা দিয়েছেন। জাতীয় পার্টি-জেপির মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, সাংবাদিকতার জগতে গিয়াস কামাল চৌধুরী ছিলেন শীর্ষ স্থানীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং সাংবাদিকতা অঙ্গনে স্থায়ী পদচিহ্ন? রাখতে সক্ষম হয়েছেন। জাতীয় প্রেস ক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটি শোক জানিয়েছে। সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ এক শোক বার্তায় বলেন, জনদরদী এই সাংবাদিক শুধু সহকর্মীদের কাছেই নয়, প্রতিটি মানুষের হূদয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। প্রেস ক্লাবে শ্রদ্ধা প্রেস ক্লাবে মরদেহ আনা হলে সেখানে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রেস ক্লাব, বিএফইউজে ও ডিইউজে, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বিরোধী দলীয় নেতার পক্ষে দলের মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. মঈন খান, এমকে আনোয়ার, বরকতউল্লাহ ভুলু, আমানউল্লাহ আমান, জয়নাল আবেদিন ফারুক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ, বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদ, বিচারপতি আবদুর রউফ বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব নিউজ পেপার প্রেস ওয়ার্কার্সের সভাপতি মোঃ আলমগীর হোসেন খান ও মহাসচিব কামাল উদ্দিন, গোলাম সরওয়ার আজাদ ও বাংলাদেশ সংবাদপত্র কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মতিউর রহমান তালুকদার ও মহাসচিব খায়রুল ইসলাম প্রমুখ ফুল দিয়ে তাকে শ্রদ্ধা জানান। তিনি অবসরের আগ পর্যন্ত বাসসের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন। শেষ জীবনে তিনি দৈনিক খবরপত্রের সম্পাদক ছিলেন। তার মৃত্যুতে যেসব সংগঠন শোক জানিয়েছে তারা হলো, এসএ টিভির সমন্বয়কারী হাসান মঞ্জু, স্বাধীনতা ফোরাম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), বাংলাদেশ প্রগ্রেসিভ পার্টি (বি.পি.পি), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ, ফেনী ফোরাম ঢাকা, কেন্দ্রীয় নবাঙ্কুর মেলা, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল)। ফেনীতে দাফন ফেনী প্রতিনিধি জানান, মরদেহ সন্ধ্যা ৭ টার দিকে ফেনীর শর্শদীর নিজ গ্রামের বাড়ি চৌধুরী বাড়ি এসে পৌঁছে। এশার নামাজের পর রাত ৮ টায় চৌধুরী বাড়ির দীঘির পাড়ে পারিবারিক গোরস্থানে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়। তার জানাজায় ফেনীর সাংবাদিক, পেশাজীবী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ফেনীতে আসার পূর্বে বিকালে কুমিল্লা শহরের নিজ বাড়ি দারোগা বাড়ির আঙ্গিনায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত জানাজায় সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সমাজের সকল স্তরের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এক শোকবার্তায় দেশের সাংবাদিকতার জগতে গিয়াস কামাল চৌধুরীর অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর এক শোকবার্তায় বলেন, দেশের সাংবাদিকতার পেশায় তার অবদানের কথা জাতি স্মরণ করবে।