রাজশাহীতে গ্যাস সংযোগে স্বেচ্ছা-স্বাধীন ঠিকাদার

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫৫
রাজশাহী মহানগরীতে প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (পিজিসিএল) নিবন্ধিত ঠিকাদাররা ইচ্ছামতো গলাকাটা ফি আদায় করছেন। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকাকে দায়ী করেছে পিজিসিএল এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সমিতি। পেট্রোবাংলার ২০০৪ সালের নীতিমালা বর্তমানে অকার্যকর বলেও দাবি করেন তারা। গ্রাহকদের অভিযোগ, গ্যাস সংযোগের পর রাজশাহী গ্যাস সংযোগকারী ঠিকাদার সমিতির উচ্চহারে তৈরি করা গলাকাটা বিল ধরিয়ে দিয়ে ওই অর্থ প্রদানে বাধ্য করা হচ্ছে। সংযোগসহ প্রথম চুলার জন্য ১০ হাজার টাকা এবং পরবর্তী প্রতি চুলার জন্য ৪ হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। আরো বেশি অর্থ আদায় করছে কোনো কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এদিকে রাইজার উত্তোলনের সময় মেয়াদ উত্তীর্ণ যন্ত্রাংশ জোড়াতালি দিয়ে সংযোগ সম্পন্ন করার অভিযোগ তো রয়েছেই। এ নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই গ্রাহকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও তাদের লোকজনের বিবাদ লেগেই আছে। মেয়াদ উত্তীর্ণ যন্ত্রাংশ ব্যবহারের কারণে মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে। গ্রাহক রেজাউল করিম বলেন, বাড়িতে গ্যাস সংযোগ নিতে ডিমান্ড নোট ইস্যুর পর পিজিসিএলকে দিতে হয়েছে ৬ হাজার ৭০০ টাকা। সংযোগের জন্য রাস্তা কাটার সিটি কর্পোরেশনকে দিতে হয়েছে ৩ হাজার টাকা। একটি চুলায় সংযোগের জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিয়েছে ১০ হাজার টাকা। ব্যক্তিভেদে এই ফি বিভিন্ন রকম। অথচ বগুড়ায় পিজিসিএলের গ্রাহকরা অনেক কম টাকায় বাড়িতে গ্যাসের সংযোগ নিচ্ছেন। কিন্তু রাজশাহীতে পিজিসিএলের উদাসীনতা এবং ঠিকাদারদের স্বেচ্ছাচারিতায় গ্রাহকদের বেশি টাকা গুণতে হচ্ছে। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে গত ৭ জুন রাজশাহীতে গ্যাসের সংযোগ দেয়ার কাজ শুরু হয়। এ পর্যন্ত নগরীতে ১ হাজার ৭ শতাধিক বাড়িতে গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়েছে। প্রতিদিন ৩টি টিম রাইজার উত্তোলন শেষে ৫০/৫৫টি বাড়িতে গ্যাস সংযোগ দিচ্ছে। গ্যাস সংযোগের জন্য এ পর্যন্ত ১৪ হাজারের অধিক গ্রাহক পিজিসিএল অফিসে আবেদন করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। রাজশাহী গ্যাস সংযোগদানকারী ঠিকাদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ আল মাসুদ রনি বলেন, সমিতির বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৪০-এর বেশি। দেড় থেকে দুই মাস বয়সী সমিতির সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট ফি নির্ধারণ বা নীতিমালা তৈরি হয়নি। ঠিকাদারদের ইচ্ছামতো ফি আদায়ের সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন, সবাইকে একটি নীতিমালায় আনতে চেষ্টা করা হচ্ছে। ফি নির্ধারণের জন্য পিজিসিএলকে বলা হয়েছে। তারা ফি নির্ধারণ করে দিলেই ভালো হয়। পেট্রোবাংলার ২০০৪ সালে প্রণীত নীতিমালা বর্তমান সময় উপযোগী নয় বলেও তিনি স্বীকার করেন পিজিসিএল রাজশাহী অফিসের ইনচার্জ তোফায়েল আহমেদ স্বীকার করেন, ‘চুলা প্রতি ঠিকাদারদের নির্দিষ্ট কোনো ফি পিজিসিএল থেকে নির্ধারণ করে দেয়া নেই। ঠিকাদাররা পেট্রোবাংলার ২০০৪ সালের নীতিমালা ফলো করে। ওই নীতিমালায় ১ থেকে ১০ মিটার সংযোগের জন্য ঠিকাদাররা ৪ হাজার টাকা নিতে পারবে। এরপর দূরত্ব বাড়লে ফি-ও বাড়বে। এরপর ওই নীতিমালা আর পরিবর্তন হয়নি।’ ঠিকাদাররা ইচ্ছামতো টাকা নিচ্ছে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এটা আসলে গ্রাহকদের জন্য বেশি হয়ে গেছে। নতুন নীতিমালার জন্য পিজিসিএল এর মাধ্যমে পেট্রোবাংলায় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। পিজিসিএল রাজশাহী অফিস সূত্র জানায়, আবেদন জমার পর সিরিয়াল অনুযায়ী আবাসিক গ্যাস সংযোগের জন্য পিজিসিএলের কর্মকর্তারা জরিপ করবেন। জরিপ শেষে তিন মিলিমিটারের অতিরিক্ত ব্যাসের পাইপের মূল্য (প্রতি মিটার ৪০৬ টাকা), সংযোগ ফি ২ হাজার ৭৫০ টাকা, ৩ মাসের সমপরিমাণ গ্যাসবিলের অর্থ জামানত (১ হাজার ৩৫০ টাকা), কমিশনিং ফি ৩০০ টাকা উল্লেখ করে ডিমান্ড নোট বা চাহিদাপত্র ইস্যু করা হবে। ডিমান্ড নোটের টাকা ও সংশ্লিষ্ট রাস্তা কাটার অনুমতিপত্র জমার পর নকশা অনুমোদন করা হবে। এরপর গ্রাহক ঠিকাদারের মাধ্যমে বাড়িতে গ্যাস সংযোগ নিতে পারবেন।