মানুষ তার আশার সমান বড়। ছোটবেলা থেকে অনেকেরই স্বপ্ন থাকে বড় হয়ে ডাক্তার হবার। অনেক মা-বাবারও স্বপ্ন তার সন্তানটি বড় হয়ে দেশের একজন নামকরা ডাক্তার হবে। মানুষের সেবা করবে, দুস্থ, অসহায় মানুষের সেবায় নিজেকে উত্সর্গ করবে। এভাবেই ডাক্তার হবার স্বপ্ন বুকে নিয়ে অনেকেই সামনে এগিয়ে যায়। আমাদের দেশের অনেক মেডিক্যাল কলেজের মধ্যে তায়রুন্নেসা মেমোরিয়াল মেডিক্যাল কলেজ এন্ড হসপিটাল একটি। এ কলেজের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাদের এমবিবিএস কোর্সের সর্বশেষ পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছে। এ ব্যাচের মোট শিক্ষার্থী ৫০ জন, এদের মধ্যে ৩১ জন মেয়ে আর ১৯ জন ছেলে। তাদের ভাবনা নিয়েই এ প্রতিবেদন—
০০০০০
শিরীন সুলতানা শম্পা
জন্ম রংপুরে হলেও কুষ্টিয়ার একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হয়েছে সে। মেডিক্যালে পড়ার ইচ্ছা তার কোনোকালেই ছিল না। ইচ্ছা ছিল বড় হয়ে একজন ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। তার বাবার স্বপ্ন ছিল বড় মেয়েটিকে ডাক্তার বানানোর। কিন্তু বড় মেয়েকে ডাক্তারী পড়াতে না পেরে ছোট মেয়েটিকেই ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন দেখেন তিনি। তাই বাবার ইচ্ছা অনুযায়ী মেডিক্যালে ভর্তি হওয়া। বাবার স্বপ্ন অনুযায়ী ডাক্তারী পড়লেও এখন সেও স্বপ্ন দেখে ডাক্তার হয়ে মানুষকে সেবা করার। মেডিক্যালে ভর্তি হওয়ার আগেই পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়ে যায়। এখন সে স্বপ্ন দেখছে কুষ্টিয়াতেই বড় একটি আধুনিক হাসপাতাল করে মানুষের সেবা করবে। শম্পা ক্যারিয়ার গড়তে চায় একজন শিশু বিশেষজ্ঞ হিসেবে। বাবা-মায়ের স্বপ্নকে বুকে ধারণ করেই তার সামনে এগিয়ে যাওয়া, মানুষের সেবায় নিজেকে উত্সর্গ করা।
০০০০০
শামীমা নাসরিন জিতি
মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা এ মেয়েটির জন্ম গাজীপুরে। ছোটবেলায় স্টেথোস্কোপ নিয়ে খেলতে খেলতেই তার স্বপ্ন বড় হয়ে ডাক্তার হবে। মা-বাবারও অনেক স্বপ্ন পরিবারের বড় এ মেয়েটি ডাক্তার হবে। স্বপ্নকে সামনে রেখেই তার এ মেডিক্যালে ভর্তি হওয়া। ধীরে ধীরে পাঁচটি বছর পার করে এবার সে স্বপ্নের কাছাকাছি। তার স্বপ্ন মেডিসিনের স্পেশালিস্ট হবে। এমবিবিএস পাস করে উচ্চতর শিক্ষার জন্য দেশের বাইরে গিয়ে লেখাপড়া করার স্বপ্ন তার অনেকদিনের। নিজের জীবনের অর্জিত সমস্ত জ্ঞান আর শিক্ষা দিয়ে নিঃস্বার্থভাবে দেশের হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায় সে। বিনামূল্যে দুস্থ মানুষের সেবা করে তার শিক্ষার উদ্দেশ্যকে সফল করাই তার জীবনের লক্ষ্য।
০০০০০
জেসমিন আক্তার নিশি
নারায়ণগঞ্জ শহরে বেড়ে ওঠা মা-বাবার একমাত্র মেয়ে জেসমিন আক্তার নিশি। বাবা পেশায় একজন ব্যবসায়ী। পরিবারের পাশাপাশি তারও ছোটবেলা থেকেই প্রবল ইচ্ছা বড় হয়ে ডাক্তার হবে। মধ্যবিত্ত পরিবারের এ মেয়েটির ছোটবেলা থেকেই গান করার নেশা। ছোটবেলায় গান শিখলেও লেখাপড়ার চাপে গান অনুশীলন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। সামনেই ডাক্তার হওয়ার সর্বশেষ পরীক্ষা। এখন তার চোখে অনেক স্বপ্ন সামনে এগিয়ে যাওয়ার। মা-বাবার চাইতেও নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে তার ভাবনা অনেক বেশি। তাই বাবা-মা বিয়ের চিন্তা করলেও তার ইচ্ছা ভিন্ন। সে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত গাইনোকোলজিস্ট হিসেবে দেখতে চায়। অনেকের মতোই তারও ইচ্ছা দেশের বাইরে গিয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নেয়ার। মা-বাবা আর নিজের ইচ্ছাতে নারায়ণগঞ্জেই নিজেকে একজন ডাক্তার হিসেবে সে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। নিজের গ্রামেই নিঃস্বার্থভাবে অসহায় গরীব মানুষের সেবা করার ইচ্ছা তার প্রবল। আর্ত-মানবতার সেবায় নিজেকে উত্সর্গ করে তার এ ডাক্তার হবার স্বপ্নকে সার্থক রূপ দেয়াই বর্তমানে তার একমাত্র চাওয়া।
০০০০০
সাদিয়া নাজার উর্মি
ব্যস্তময় শহর ঢাকার মেয়ে সাদিয়া। পরিবারের শান্তশিষ্ট সবচেয়ে কনিষ্ঠ মেয়ে উর্মির ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ডাক্তার হবার। বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত আর্মি অফিসার। ছোটবেলার স্বপ্নকে পূরণ করতেই তার মেডিক্যালে ভর্তি হওয়া। সেকেন্ড প্রফেশনাল পরীক্ষার পর মা-বাবার ইচ্ছেতেই সে বিয়ে করে। কিন্তু পরিবারের পুরোপুরি সমর্থন ও সহযোগিতা থাকায় কোথাও থামতে হয়নি। শিক্ষাজীবন শেষ করে তার ইচ্ছা ভবিষ্যতে নাক, কান, গলা বিষয়েই তার ক্যারিয়ারকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। বাবার অনুপ্রেরণায় তার ইচ্ছা আর্মিতে একজন ডাক্তার হিসেবে নিজেকে নিযুক্ত করা। তার স্বপ্ন উচ্চতর শিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় লেখাপড়া করা। দেশে ফিরে মানুষের সেবায় মানসম্পন্ন একটি হাসপাতালও করতে চায় উর্মি। একজন সুনাগরিক হিসেবে নিজের নীতিকে ঠিক রেখে নিঃস্বার্থভাবে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায় সে।
