এল ক্ল্যাসিকোর নতুন নায়ক নেইমার

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৩, ২২:১০
বরাবর যা ছিল লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দ্বৈরথ, সেখানে নতুন আরো চার কুশিলব নেইমার, গ্যারেথ বেল এবং দুই কোচ যোগ দিলেও সবাইকে ছাপিয়ে গেলেন ব্রাজিলীয় সুপারস্টারটিই। মূলত নেইমারময় প্রথমার্ধে ইনিয়েস্তা ও সেসক ফেব্রেগাসের সাথে তার বোঝাপড়ার সুবাদেই বার্সেলোনা নিজ মাঠে ২-১ গোলে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে লিগের শীর্ষে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের চাইতে চার পয়েন্টের ব্যবধান গড়ে নিল। রিয়াল মাদ্রিদ এই হারে বার্সার চাইতে ছয় পয়েন্টে পিছিয়ে গেল। বার্সেলোনা কোচ জেরার্ডো মার্টিনো নিজের প্রথম এল ক্ল্যাসিকো জয় দিয়ে উদযাপন করলেও তাতে মেসির ও দলের খেলায় সন্তুষ্ট নন। তিনি মনে করেন, মেসি এই রাতে তার নিজ মানে খেলতে পারেননি। ৫০ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, ‘আমরা প্রথমার্ধে ভাল খেলেছি। কিন্তু এরপর পিছিয়ে পড়ি এবং একই কথা সত্য মেসির ব্যাপারে। তবে সে কঠোর পরিশ্রম করেছে এবং আমি তার পারফর্মেন্সকে গুরুত্ব দেই। যদি মেসি ও অন্য খেলোয়াড়রা এরকম ভাল খেলা অব্যাহত রাখতে পারে, তাহলে আমরা ভাল একটা মৌসুম পেতে যাচ্ছি।’ চলতি গ্রীষ্মেই ক্যান্সারে আক্রান্ত টিটো ভিলানোভার পরিবর্তে দায়িত্ব নেয়া মার্টিনো নেইমারের প্রশংসায় উচ্চকণ্ঠ হন। শুধু তাই নয়, তিনি এও জানান যে, ২১ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়ের কাছ থেকে আরো নৈপুণ্য দেখা যাবে। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘নেইমার অসাধারণ খেলেছে। কিন্তু আমি তাকে আরো ভাল খেলতে দেখেছি। ক্ল্যাসিকোয় তার গোলটির গুরুত্ব অনেক।’ আর্জেন্টাইন অধিনায়ক মেসি ইনজুরি সারিয়ে মাঠে ফেরায় হয়তো পুরোপুরি ফিট ছিলেন না। তাতে অবশ্য স্প্যানিশ লিগের শিরোপাধারীদের কোন সমস্যা হয়নি। বরং নেইমার ও চিলির অ্যালেক্সি সানচেজের গোলে এল ক্ল্যাসিকোয় দু’বছরের মধ্যে প্রথম জয়ের দেখা পায়। চলতি মৌসুমের প্রথম এল ক্ল্যাসিকোটির আগে সর্বশেষ পাঁচ লড়াইয়ে রিয়াল তিনটিতে জয়ী এবং দুটি ড্র করেছিল। বার্সেলোনা এ খেলাটিতে নেমেছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের খেলায় এসি মিলানের সাথে ড্রয়ের পর। সে তুলনায় রিয়াল রোনালদোর জোড়া গোলে জুভেন্তাসকে হারিয়ে এই দ্বৈরথে নামে। কিন্তু মাঠের খেলায় দেখা গেল বিপরীত ছবি। সেটা সম্ভব হয় ইনিয়েস্তা ও ফেব্রেগাসের সাথে নেইমারের বোঝাপড়ায়। রিয়াল মাদ্রিদ বিরতির পর ভাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুললেও গোলের দেখা পায় ইনজুরি সময়ে। স্প্যানিশ জেসে রড্রিগোয়েজের যখন গোলটি করেন সেসময় আর কিছুই করার ছিল না মাদ্রিদের দলটির। তবে তাদের দাবি মতো রেফারি ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় ‘ন্যায্য’ পেনাল্টিটি দিলে খেলার গতি প্রকৃতি বদলালেও বদলাতে পারতো। কিন্তু ৭০ মিনিটে আর্জেন্টাইন জাভিয়ের ম্যাশেরানো পর্তুগীজ রোনালদোকে বক্সে ফেলে দেয়ার পরও রেফারি তা উপেক্ষা করেন। এ রাতে ভাগ্যও কিছুটা বিরুদ্ধে ছিল ইতালিয়ান কোচ কার্লো অ্যানচেলোত্তির দলটির। নইলে ৭২ মিনিটে করিম বেনজেমার শটটি কেন ক্রসবারে লেগে বিফলে যাবে। কাতালান ক্লাবটি নিজেদের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে নেইমারের ১৯ মিনিটে দেয়া দর্শনীয় গোলে এই রাতে এগিয়ে যায়। ইনিয়েস্তার কাছ থেকে বল পেয়ে বাম প্রান্ত দিয়ে ঢুকে ব্রাজিল সুপারস্টার বিপক্ষ ডিফেন্ডারের পা গলিয়ে কোণাকুণি শটে বল জালে পাঠান। বিরতির পর প্রথমার্ধের মতো তেজ না থাকলেও নিয়ন্ত্রণ ছিল স্বাগতিকদেরই। এরই সুবাদে ৭৮ মিনিটে চিলিয়ান সানচেজ সতীর্থ নেইমারের কাছ থেকে বল পেয়ে ২০ গজ দূর থেকে আগুয়ান গোলরক্ষক দিয়েগো লোপেজের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান। স্পেনের দুই জায়ান্ট বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যকার এল ক্ল্যাসিকো তথা ফুটবল লড়াইয়ে এবার লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পাশাপাশি দ্বৈরথে যোগ দেন নেইমার ও বিশ্বের সবচাইতে দামি ফুটবলার গ্যারেথ বেল। তাতে প্রাদপ্রদীপের প্রায় সবটুকু আলো কেড়ে নেন নেইমার। বেল এতটাই নিষ্প্রভ ছিলেন যে, ঘন্টার মাথায় তাকে তুলে নিতে হয় মাঠ থেকে। রোনালদোও নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি এ রাতে। দর্শকসংখ্যার রেকর্ড ৯৮,৭৬১ জন দর্শক খেলাটি গ্যালারিতে বসে উপভোগ করেন।