ক্ষমতার নির্ণায়ক হতে পারেন মমতা

আপডেট : ১৯ মে ২০১৯, ২২:২৮

তারিক হাসান, কলকাতা থেকে

 

ভারতে জোট রাজনীতির শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে পশ্চিমবঙ্গ। গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে সেখানকার শাসকদলের রাজনৈতিক ভাবনা। তারা যে দিকে হেলেছে ভারতের সরকারও সেই দিকে অনেকটাই হেলে পড়েছে, মাঝে দু-একবার অবশ্য ব্যতিক্রমও হয়েছে। তবে ১৯৭৭ সাল থেকে গত ৪২ বছরের বেশির ভাগটাই ভারতের রাজনীতিতে বড় প্রভাব রেখেছে পশ্চিমবঙ্গ। বিশেষ করে বলতে গেলে তাদের শাসকদল সিপিএম। এবার ফের একবার সেই অবস্থানে চলেছে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল। তবে এবার মূল ভূমিকায় তৃণমূল কংগ্রেস। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

২০১১ সালে সকলকে বিস্মিত করে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস। অবসান ঘটে ৩৪ বছরের সিপিএম শাসনের। তারপর থেকে ক্রমেই সর্বভারতীয় রাজনীতিতে শক্তিশালী হয়ে উঠতে থাকে মমতা ব্যানার্জির দল। ২০০৯ সালে লোকসভায় ১৯ আসন। ২০১৪ সালে বেড়ে হয় ৩৪। ভারতীয় রাজনীতিতে চতুর্থ বৃহত্ শক্তি। এনডিএ বিরাট গরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসায় সরকারে সরাসরি প্রভাব তাদের ছিল না। তবে বিরোধী মঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন মমতা ব্যানার্জি।

এবার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্ন। অনেকটা ২০০৪ সালের মতো। সেবার পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল সিপিএমের সমর্থন না থাকলে জাতীয় কংগ্রেস সরকার গঠন করতে পারত না।

বিভিন্ন জনসমীক্ষা বলছে বিজেপি এবারও বৃহত্ দল হতে চলেছে। তবে এনডিএর শরিকদল মিলিয়েও তারা ম্যাজিক ফিগার ২৭২ আসন থেকে বেশ কিছুটা দূরে থমকে যেতে পারে। মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস হতে পারে তৃতীয় শক্তি। মমতা ব্যানার্জি নিজে চাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের ৪২টির মধ্যে সবকটি আসনই পেতে। লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর যদি ‘হাঙ্গ’ পার্লামেন্ট পরিস্থিতি হয়, সেক্ষেত্রে মমতা ব্যানার্জি হয়ে উঠতে পারেন নির্ণায়ক শক্তি। আঞ্চলিক দলগুলো যদি তাঁকে সমর্থন করেন তাহলে তিনি হলেও হতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। আর যদি না হয়? তাহলেও মমতা ব্যানার্জির গুরুত্ব কোনো মতে কমবে না। কারণ ভারতে অবিজেপি সরকার গড়তে হলে মমতা ব্যানার্জির দলকে কোনো মতেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। এড়ানো যাবে না পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্বকে।