থেরেসার বিদায় ঘণ্টা আসন্ন!

আপডেট : ১৯ মে ২০১৯, ২২:২৮

তৌহিদ আজিজ

 

ব্রেক্সিট ইস্যুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র বিদায় ঘণ্টা বাজতে চলেছে। আগামী মাসেই ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে পার্লামেন্টে আবারো ভোটাভুটি হবে। থেরেসা মে এতে হেরে গেলে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন আগে থেকেই। কিন্তু এবার তিনি পরবর্তী উত্তরসূরি নির্বাচনের দিনক্ষণও ঘোষণা করবেন বলে জানা গেছে। রীতিমতো অন্যান্য এমপির চাপের মুখেই তিনি এটা করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাই জুনের এই ভোটাভুটিকে কেন্দ্র করে বিশ্বের নজর এখন অনেকটা যুক্তরাজ্যের            দিকেই। আর এ সুযোগটিকেই কাজে লাগাচ্ছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও টোরি এমপি বরিস জনসন। থেরেসা মে পদত্যাগ করলে তিনি নির্বাচনে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন।   

ব্রেক্সিট নিয়ে এই অচলাবস্থা অনেক আগে থেকেই। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আলোচনা, বৈঠকও কম হয়নি। নিজের দলের মধ্যে দূরত্ব ঘোচাতে বহুবার চেষ্টা করেছেন তিনি। দফায় দফায় টোরি ও বিরোধী লেবার পার্টির সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। থেরেসার ব্রেক্সিট পরিকল্পনা নিয়ে এ পর্যন্ত তিনবার তা পার্লামেন্টে ভোটাভুটিতে গিয়েছে। প্রতিবারই প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। এবার যদি ভোটাভুটি হয় তাহলে তা চতুর্থবারে দাঁড়াবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী যদি পদত্যাগ করেন তাহলে বলা যেতে পারে নতুন প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় যুক্তরাজ্য। তবে কবে তিনি পদত্যাগ করছেন টরি এমপিদের করা এমন প্রশ্নের উত্তর সরাসরি না জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন নির্বাচনের দিনক্ষণ পার্লামেন্টে ভোটাভুটির পরই তিনি ঘোষণা করবেন।

থেরেসা মে’র এই পদত্যাগের বিষয়টি ব্রিটিশ রাজনীতিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হলেও বরিস জনসনের জন্য তা পোয়াবারো। এরই মধ্যে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন থেরেসা পদত্যাগ করলে সামনের নির্বাচনে লড়বেন তিনি। তবে বাতাস বরিস জনসনের অনুকূলে থাকলেও নির্বাচনের লড়াইয়ে তিনি কতটা কারিশমা দেখাতে পারবেন সে প্রশ্ন থেকেই যায়। কেননা এর আগে ২০১৬ সালের জুনে গণভোটের পর প্রধানমন্ত্রী পদের প্রার্থিতা থেকে হঠাত্ সরে দাঁড়ান তিনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, তখনকার বাস্তবতা আর এখনকার বাস্তবতার মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। এদিকে এক জনমত জরিপে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী পদে দাঁড়ালে তার পক্ষে দলের সমর্থন রয়েছে ৩৯ শতাংশ। আর ব্রেক্সিট সেক্রেটারি ডোমিনিক রাবের পক্ষে রয়েছে ১৩ শতাংশ।

তবে থেরেসা মে’র এই পদত্যাগের ঘোষণার পিছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত: তিনি এই ইস্যুটিকে নিয়ে ঘরে-বাইরে সবখানেই চাপের মধ্যে আছেন। বলা যেতে পারে একরকম কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন তিনি। দ্বিতীয়ত: স্থানীয় নির্বাচনে টোরি দলের খারাপ ফলাফলও তাকে পদত্যাগে চাপ দেওয়া শুরু করে। তৃতীয়ত: এর আগে পার্লামেন্টে  অল্পের জন্য আস্থা ভোটে টিকে গেলেও তার অবস্থা অনেকটা নড়বড়ে   হয়ে যায়। চতুর্থত: জুনের প্রথম সপ্তাহেই ব্রিটেন সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার আগেই তাকে পদত্যাগে বাধ্য করতে এই চাপ দেওয়া হয়।