‘ধরা পড়ার ভয়ে গুলি করি’

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৪৯
‘ধনী লোকের বাসা। তাই ডাকাতির পরিকল্পনা অনেক আগে থেকেই। এরই অংশ হিসেবে ঘটনার কয়েক দিন আগে বখতিয়ারদের বাড়ির কুকুরকে বিষ মেশানো খাবার খাইয়ে হত্যা করা হয়। এর ফলে বাসার ভেতরে প্রবেশ করতেও কোন বেগ পেতে হয়নি। ডাকাতির পদ্ধতি অনুযায়ী সবাইকে জিম্মি করাও হয়েছিল। কিন্তু হঠাত্ প্রতিরোধের মুখে পড়ি। বাসার গৃহকর্তার ছেলে (পড়ে জেনেছি) বখতিয়ার ঘুম থেকে উঠেই দুই হাতে আমার গলায় জড়িয়ে ধরে। ধস্তাধস্তি করেও ছুটতে পারছিলাম না। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে তাকে গুলি করি। তবে হত্যা করার কোন পরিকল্পনা ছিল না। আর গুলির পর পরই ডাকাতির পরিকল্পনাও ভেস্তে যায়। মালামাল লুট না করেই পালিয়ে যাই।’ পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানিয়েছে যাত্রাবাড়ীতে কলেজ ছাত্র বখতিয়ার হত্যা মামলার অন্যমত আসামি মোঃ খলিল (৩৪)। এ হত্যাকাণ্ডে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ শনিবার রাজধানীর মুগদা ও যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে খলিলসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত অপর তিনজন হচ্ছে মো ঃ আখতার (৩৫), রুস্তম আলী হাওলাদার (৫০) ও জালালউদ্দিন জালাল (৪৫)। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় গুলিভর্তি একটি রিভলবার। গতকাল রবিবার গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের চারদিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে তিনটার দিকে উত্তর যাত্রাবাড়ীর সাজেদা ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন ৯৬ বাসার ভেতরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন কলেজ ছাত্র বখতিয়ার মোহাম্মদ লতিফ। এ ঘটনায় বখতিয়ারের বাবা ব্যবসায়ী জাহদি আল লতিফ খোকা বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় ডাকাতি মামলা করেন। পরে মামলাটি তদন্ত ন্যস্ত হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা দফতরে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। খলিল এই ডাকাত দলের একজন দুর্ধর্ষ শ্যুটার এবং কিলার। খলিলই ঐদিন বখতিয়ারকে গুলি করে হত্যা করে । আখতার এই ডাকাত দলের নেতা এবং একজন দুর্ধর্ষ অপরাধী। আখতার ১০/১২ জনের এ ডাকাত দলটিকে গত কয়েক বছর যাবত্ নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। তারা গত ১০ অক্টোবর কেরানীগঞ্জে ডাকাতি করতে যায়। ঐ সময় তাদের দুই সহযোগী হাবিব ও স্বপন জনতার হাতে ধরা পড়ে। তারা বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে। তাদেরও রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। বখতিয়ারের বাসায় ডাকাতির সময় তারা মোট ৮ জন ছিল। তারা ঘটনার রাতে একটি ট্রাকে করে ঐ বাড়িতে যায়। ট্রাকে ছিল একজন আর বাকি ৭ জন বাসার ভেতরে প্রবেশ করে।