নিরপেক্ষ সরকার আলোচনার বিষয় হতে হবে

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫৬
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিরোধীদল দমনে সরকার আগের মতোই আচরণ করে যাচ্ছে। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থার নীতিগত বিষয়টি আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু হতে হবে, অন্যথায় সরকারের সমঝোতা ও সংলাপের আহ্বান জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হবে না। গতকাল রবিবার ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৬০ ঘন্টার হরতালের প্রথম ১২ ঘন্টায় দেশের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, শনিবার প্রধানমন্ত্রীর ফোনের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত ১৪ দলের নেতারা যেসব কথা বলেছেন তা সমঝোতার ভাষা ছিল না। তারা শর্ত দিয়েছিলেন আল্টিমেটাম-হরতাল প্রত্যাহার করতে হবে, সংবিধানের বাইরে আলোচনা হবে না। তিনি বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের সরকার বলবত্ থাকবে এবং তাদের অধীনে নির্বাচন হবে। বিএনপিকে বাদ দিয়ে তারা নির্বাচন করতে চায়। সরকারের শেষ সময়ে তারা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। কারণ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তাদের জয়লাভের সম্ভাবনা নেই। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অভ্যুত্থানকে দমন করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীকে সরকার অন্যায়ভাবে ব্যবহার করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, হরতাল চলাকালে সারাদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ৩ জন মারা গেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের হামলায় বিরোধী দলের ১৫শ’ অধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে ৬ শতাধিক, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা ও যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরবসহ ১৫ হাজারের অধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত ১২ জন নেতাকর্মীর ৬ মাসের দণ্ড দিয়েছে। গত ২৫ তারিখ থেকে গতকাল পর্যন্ত পুলিশের গুলিতে ১২ জন নিহত হয়েছে। ‘ও’ লেভেল পর্যায়ের পরীক্ষা, গণমাধ্যমের পরিবহন এবং আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ক্রিকেট খেলা হরতালের আওতামুক্ত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা খবর পেয়েছি কতিপয় দুষ্কৃতকারী গণমাধ্যমের গাড়িতে হামলা চালিয়েছে। এ ব্যাপারে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। ব্রিফিংয়ে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, ঢাকা মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, সহ-দফতর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুল করিম শাহীন উপস্থিত ছিলেন। এদিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অপর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মির্জা ফজরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, হরতালের অজুহাত দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংলাপ না করলে তা ঠিক হবে না। নির্বাচনকালীন সময়ে নির্দলীয় সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে হরতালের পর যে কোনো সময়, যে কোনো স্থানে আলোচনা হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে সময়ে ফোন দিয়েছেন এই স্বল্প সময়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ ছিল না। সংলাপের বিষয়ে দুই দলের মহাসচিব পর্যায়ে যোগাযোগ রয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো যোগাযোগ হয়নি।