মূল্যপতনে দিনাজপুরে আলু নিয়ে বিপাকে চাষি ও হিমাগার মালিক

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫৭
এ বছর আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছে আলু চাষিরা। বাজারে অন্যান্য সবজির উত্পাদন বেশি ও মূল্য কম থাকায় আলুর ওপর চাপ কমে যাওয়ায় আলুর চাহিদা কমে গেছে। ফলে আলুর মূল্যপতন অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও হিমাগার মালিকরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এবার জেলায় ৩৭ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে আবাদ করে ৭ লাখ ২৬ হাজার ৩৯ টন আলু উত্পাদন হয়েছে। আলুর বাম্পার উত্পাদনের পর অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় প্রকৃত ব্যবসায়ী ছাড়াও মৌসুমী ব্যবসায়ীরাও আলু সংরক্ষণ করে। জেলার ১৩টি হিমাগারে প্রায় ৯৪ হাজার টন আলু সংরক্ষণের ব্যবস্থা আছে। পাইকারি ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা প্রতি বস্তা (৮৪ কেজি) আলু কিনেছিল ১১০০ টাকা দরে। হিমাগার ভাড়া ৩৪০ টাকা। ফলে বস্তাসহ মোট খরচ পড়েছিল ১৪৫০ টাকা। এতে প্রতি কেজি আলুর দাম পড়ে ১৭ টাকা ১৪ পয়সা। এখন খুচরা বাজারে হিমাগারের আলু ১১ টাকা থেকে ১২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে এবং বাড়িতে সংরক্ষিত মাচার আলু ১৪ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। হিমাগারের প্রতি বস্তা আলু এখন পাইকারি বেচা-কেনা হচ্ছে ৭৫০ টাকা বস্তা। এতে আলু সংরক্ষণকারীদের প্রতি বস্তায় লোকসান গুণতে হচ্ছে ৭০০ টাকা। এবার অক্টোবর মাসের ২৩ তারিখ পর্যন্ত হিমাগারের ৪৫ শতাংশ আলু বাজারে গেছে। এখনও যে পরিমাণ আলু সংরক্ষিত আছে তা আগামী নভেম্বর মাসেও শেষ হবে না। এই আলু আগামী জানুয়ারি মাস পর্যন্ত চলবে। এর মধ্যে বাজারে নতুন আলু উঠতে শুরু করবে। বিশাল পরিমাণ অবিক্রিত আলু নিয়ে আলুর পাইকারি ব্যবসায়ী, মৌসুমী ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা বিপাকে পড়বে বলে জানিয়েছেন আলুর পাইকারি ব্যবসায়ীরা। আলু চাষী বলরাম ইত্তেফাককে বলেন, এবছর ১২০ বস্তা আলু হিমাগারে রেখেছি। কম দামের কারণে বস্তা প্রতি ৭শ’ টাকা করে ক্ষতি হবে। জনৈক হিমাগার মালিক ইত্তেফাককে বলেন, হিমাগারে এখনো ৪ হাজার টন আলু মজুদ রয়েছে। এর ফলে হিমাগার প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার বিদ্যুত্ বিল টানতে হচ্ছে।