রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাসের মৃত্যুর ৫৭ বছর পর নগরীর বগুড়া সড়কে অবস্থিত তার পৈতৃক বাড়ির জমিতে কবির নামে নির্মাণ করা হয়েছিল একটি পাঠাগার। সেই পাঠাগার এখন পরিণত হয়েছে কমিউনিটি সেন্টারে। বিয়েসহ নানা অনুষ্ঠানের জন্য বাড়িটি ভাড়া দিচ্ছে জেলা পরিষদ।
কবির মৃত্যুর পঞ্চান্ন বছর পর ২০০৮ সালে কবির স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক ঐ বাড়িতে জেলা পরিষদের মাধ্যমে অডিটরিয়াম ও পাবলিক লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয় এলজিইডি মন্ত্রণালয়। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নির্মাণ করা হয় পাঠাগার ও মিলনায়তন। আলমারি ভর্তি বই রয়েছে পাঠাগারে। বিকাল হলে জেলা পরিষদের একজন লাইব্রেরীয়ান গিয়ে গাঠাগারের তালা খোলেন। থাকেন সন্ধ্যা পর্যন্ত। কিন্তু পাঠকের দেখা মেলে না। বরং সেখানে নিত্যদিন বিয়ের ধুম পড়ে যায়। জেলা পরিষদ পাঠাগারটি বিয়েসহ নানা অনুষ্ঠানের জন্য কমিউনিটি সেন্টার হিসাবে ভাড়া দিচ্ছে। কবির জন্মদিনের পরদিন গত বুধবার সেখানে গিয়ে দেখা গেল বিয়ের ধুম। গেট সাজিয়ে খাওয়া-দাওয়া চলছে হরদম। কবির জন্মদিনের পরদিনই এ দৃশ্য দেখে হতবাক ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন কবি ভক্ত অনেকেই।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মকবুল হোসেন বিয়ের জন্য হলরুম ভাড়া দেয়ার কথা অকপটে স্বীকার করে জানান, দৈনিক পনের’শ টাকা করে ভাড়া দেয়া হয় হলরুমটি। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে নাকি জেলা পরিষদের সিদ্ধান্তে এ হলরুম ভাড়া দেয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, তিনি বরিশালে যোগদানের পূর্বেই পাঠাগারের নীচতলা ভাড়া দিতে দেখেছেন। সে অনুযায়ী ভাড়া দিয়ে জেলা পরিষদের আয় বৃদ্ধি করা হচ্ছে। তবে জেলা পরিষদের আইন উপদেষ্টা বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মানবেন্দ্র বটব্যাল জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে কিছুই জানতেন না। স্থানীয়রা জানান, নামেই জীবনানন্দ দাশ পাঠাগার। সেখানে মাঝে-মধ্যে তারা বিয়ের অনুষ্ঠান দেখলেও পাঠাগারের কোন কার্যক্রম তাদের চোখে পড়ে না।
পাঠাগারের মতই বেহাল দশা জীবনানন্দ দাশের মূল বাড়িটির। বাড়ির ভেতর সেইসব প্রাচীন শাল, আম, জাম, কেওড়া, ঝাড়গাছের এখন আর খোঁজ পাওয়া যায় না। পূর্বপুরুষদের স্মৃতিবাহী মঠগুলোর অস্তিত্বও নেই। জীবননান্দ দাশের সাধের গোলাপ বাগানও কালে কালে শেষ হয়ে গেছে। প্রায় ৬ বিঘা জমির উপর বাড়িটি তিন ভাগে বিভক্ত। একপাশে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গুদাম ঘর। অপরপাশে ক্রয়সূত্রে বসবাস করছেন আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ও নাতীরা। সিটি কর্পোরেশনের দখলে রয়েছে ১০ শতাংশ জমি। সেখান থেকে ৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ জমির উপর গড়ে তোলা হয়েছিল জীবনানন্দ পাঠাগার ও মিলনায়তন। এলজিইডি মন্ত্রণালয় ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে এ ভবন নির্মাণ করে। জীবনানন্দ দাশের ১১১তম জন্মবার্ষিকীর দিনে ২০১০ সালে এ মিলনায়তন ও পাঠাগার উদ্বোধন করা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় ট্রাম দুর্ঘটনায় মারা যান কবি জীবনানন্দ দাশ। প্রতি বছর তার মৃত্যুবার্ষিকীতে কবিতা পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন কর্মসূচি পালন করলেও গত দু’বছর ধরে কবির মৃত্যুদিবসকে ঘিরে কোন আয়োজন পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
