একথা আজ অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার সোনার দুয়ার খুলে দিয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ। কম না কিন্তু হিসাব করে অনেকে জানাচ্ছেন দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭২টি। আমরা একটি উদীয়মান বিকাশ উন্মুখ জাতি। শিক্ষার এই ধারা অব্যাহত থাকলে এক সময় শিক্ষা ক্ষেত্রের দৈন্যদশা নিশ্চয় আমরা কাটিয়ে উঠতে পারবো।
আশাব্যঞ্জক এসব ভাবনার মধ্যে মনের গহীনে কোথায় যেন একটা খচখচানি থেকেই যাচ্ছে। আমরা যারা বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেছি, বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ, এমফিল এমনকি পিএইচডি ডিগ্রি পর্যন্ত অর্জন করেছি, তাদের কর্মসংস্থানের জন্য এইসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো সুযোগ থাকছে না। অর্থাত্ এখানে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে পড়াশোনার বিভাগ নাই— গুটি কয়েক বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগ আছে কিন্তু সেখানে কয়জন শিক্ষাদানের সুযোগ পাচ্ছেন? তবে কি যারা বাংলা নিয়ে পড়েছেন তারা ভুল করেছেন? যার খেসারত জীবন নষ্ট করে দিতে হবে?
বাংলা বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা— বাঙালির মাতৃভাষা— তবু কেন বাংলা নিয়ে এত হীনমন্যতা? কেন এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগ খুলতে অনীহা? এতে করে একদিকে যেমন ছাত্র-ছাত্রী উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে মাতৃভাষা না পড়েই পাস করে বের হয়ে যাচ্ছে খন্ডিত জ্ঞান নিয়ে, তেমনি যারা এ বিষয়ে শিক্ষকতা করতে পারছেন না তারা অন্যান্য বিষয়ের শিক্ষকদের পাশে নিজেকে কল্পনা করে হীনমন্যতায় ভুগছেন। উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও সুযোগের অভাবে অর্থনৈতিক দৈন্যে আছেন— সমাজে-সংসারে অবহেলায় আছেন।
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহাদয়ের কাছে সবিশেষ নিবেদন এই যে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে বাংলা ভাষা শিক্ষার জন্য বাংলা বিভাগ খুলতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।
ড. গুলশান আরা,
৫২/২/এ, নাজিম উদ্দীন রোড, ঢাকা
