বোমা হামলায় রং মিস্ত্রির চোখ সিএনজি চালকের গেল হাত

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩৭
কি অপরাধ খেটে খাওয়া দিনমজুরদের। তারা কেন হরতালের টার্গেট হয়। এটা যেন এখন নিত্য দিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। হরতালের দ্বিতীয় দিন গতকাল সোমবারও বোমা হামলায় আহত হয়েছেন রং মিস্ত্রি আব্দুর রহমান বেপারী ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালক আয়ুব আলী মণ্ডল। তারা রাজনীতি বোঝেন না। তারা শুধু বোঝেন পরিবারের সদস্যদের জন্য দুই বেলা আহার যোগাড় করতে হবে। এ নিয়ে কেটে যায় তাদের সারাদিন। এসব অসহায় হতদরিদ্র লোকজনকে কেন টার্গেট করে বোমা নিক্ষেপ করে হতাহত করা হয় তা নিয়ে বিবেকবান রাজনীতিবিদদের বিবেক নাড়া দেয় কিনা এখন এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে। কর্মক্ষম লোক নিহত কিংবা পঙ্গু হয়ে বেঁচে থাকলে পুরো পরিবারটিকে চরম দুর্বিষহ অবস্থার শিকার হতে হয় চিরদিনের জন্য। প্রতিদিনের মতো সোমবার কাজের সন্ধানে কেরানীগঞ্জ জিনজিরা খেজুরবাগ এলাকার বাসা থেকে বের হন রং মিস্ত্রি আব্দুর রহমান বেপারী (৫০)। সকাল ৭টায় তিনি পুরনো ঢাকার রায় সাহেব বাজার চৌরাস্তায় অন্যান্য শ্রমিকের সঙ্গে ফুটপাতে সারিবদ্ধভাবে বসেন কাজের আসায়। হঠাত্ একটি হাত বোমা তার শরীর ঘেঁষে বিস্ফোরিত হয়। মুখমণ্ডল ঝলসে যায়। তাকে অন্য শ্রমিকরা দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতাল চক্ষু বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. আল মাহমুদ লেমন আহত দিনমজুর রহমানের চোখ পরীক্ষা করে দেখেন, বোমার আঘাতে তার বাম চোখের কর্নিয়া নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি চিরতরে অন্ধ হয়ে গেছেন। অন্য চোখটিতেও লেগেছে আঘাত। তাকে শেরে বাংলা নগর চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে তার সংসার। সারাদিন রং মিস্ত্রির কাজ করে যা আয় করেন। তা দিয়ে চলতো রহমান বেপারীর সংসার। এক চোখ হারিয়ে রহমান বেপারী কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, এখন আমার সন্তানরা কী খেয়ে বাঁচবো, আমি তো কোন দল করি না। আমাকে কেন বোমা মারলো? ঐ সময় উপস্থিত চিকিত্সক, সাংবাদিকরা রহমান বেপারীকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা খুঁজে পাননি। এদিকে গত রবিবার রাতে সিএনজি চালক আয়ুব আলী মণ্ডল (৪০) গাড়ি নিয়ে মাদারটেক নন্দীপাড়ার বাসা থেকে বের হন। শাহজাহানপুর আমতলা এলাকায় যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করেন আয়ুব আলী। হঠাত্ তার সিএনজিটিকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয় একটি পেট্রোল বোমা। আয়ুবের বাম হাতের ওপর বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। চোখের পলকে আগুন সিএনজিতে ছড়িয়ে পড়ে। চালক আয়ুব আলীর শরীরে ৪০ ভাগ ঝলসে যায়। বাম হাতটির অবস্থা গুরুতর। তাকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। হাতটি কেটে ফেলতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিত্সকরা। দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে আয়ুব আলীর সংসার। তার আয়ের ওপর চলতো পরিবার। স্ত্রী পারুল বেগম বলেন, এখন আমাদের বাঁচার উপায় কি? কে আমাদের দেখবে। বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েন পারুল। বার্ন ইউনিট প্রকল্প পরিচালক ডা. শামন্ত লাল সেন বলেন, সিএনজি চালক আয়ুব আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।