সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামছে বাংলাদেশ

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩৯
বাকীরা তখনও ইনডোরে অনুশীলন করছিলেন। তামিম ইকবাল একা এক অনুশীলন সহযোগীকে নিয়ে চলে এলেন মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের মূল উইকেটে। মাঠের মাঝখান থেকে একটার পর একটা ওভার দ্য টপ ছক্কা মারার অনুশীলন চালিয়ে গেলেন দীর্ঘক্ষণ। যেন প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য অনেক প্রতিপক্ষকে গুড়িয়ে দেওয়ার একটা জেদ ঠিকরে বের হতে থাকল তার মুখ থেকে। ভাতিজার এই অনুশীলন কাছে দাঁড়িয়ে দেখতে থাকা জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বোর্ড পরিচালক আকরাম খান পরে দলের হয়ে যেন বললেন, ‘গুড়িয়ে দেওয়া বা হোয়াইট ওয়াশ করা প্রাথমিক লক্ষ্য নয়। দলের প্রথম চাওয়া অবশ্যই সিরিজ জয়। তারপর সেটা যতো ভালোভাবে হয়, ততোই ভালো।’ হ্যাঁ, এই জয়ের লক্ষ্য নিয়েই আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ দল। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে, দিবা-রাত্রির ম্যাচে, আজ দুপুর ১.৩০টা থেকে মিরপুরে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ আগামী ৩১ তারিখ মিরপুরেই এবং শেষ ম্যাচ ৩ নভেম্বর ফতুল্লায়। আজকের ম্যাচটি বাকী ম্যাচগুলোর মতোই সরাসরি সমপ্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও গাজী টেলিভিশন। গত বছর তিনেক ধরেই বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেটে একটা শক্তিধর দল হিসেবে নিজেদের পরিচিত করাতে পেরেছে। দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সিরিজ হারানো, এশিয়া কাপে ভারত-শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ফাইনালে যাওয়া বা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ ড্র করা তার প্রমাণ। তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এইসব সামপ্রতিক পারফরম্যান্সের চেয়েও বেশি অনুপ্রেরণা বাংলাদেশের জন্য সেই ২০১০ সালের ‘বাংলাওয়াশ’! নিউজিল্যান্ডের এখনকার চেয়েও শক্তিশালী দলকে সেবার বাংলাদেশ ৪-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফেরত পাঠিয়েছিল। আজ আরেকটি ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে দুই দলের মধ্যেই ঘুরেফিরে সেই আলোচনা আসছে। দু দলই স্বীকার করে নিচ্ছে, ওই স্মৃতি একটা নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে এই সিরিজে। বাংলাদেশ বেশি আশাবাদী কারণ, ওই সময়ের পর থেকে তারা দল হিসেবে আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং নিউজিল্যান্ড অনেক সিনিয়রকে হারিয়ে তরুণতর দলে পরিণত হয়েছে। যদিও বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও বোর্ড পরিচালক আকরাম খান, দুজনই খুব সতর্কতার সঙ্গে বললেন, নিউজিল্যান্ড দলও এখন শক্তিশালী; বিশেষ করে ওয়ানডেতে তারাও যে প্রবল উন্নতি করছে, সেটাই সবাই মনে রাখছেন। আকরাম খান যেমন বারবার বললেন, নিজেরা কেমন করি, সেটাই কথা। বাংলাদেশ অবশ্যই আজ আশা করছে, নিজেদের পছন্দের স্পিন সহায়ক, নিচু বাউন্সের, ধীর গতির উইকেটে তারা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো শুরু করতে পারবে। তবে ঠিক ‘প্রেসক্রিপশন’ মোতাবেক উইকেট পাওয়া যাবে কি না, সে নিয়ে সংশয় আছে। আর উইকেট আজ দুপুরে শেষ বারের মতো দেখে তবেই আসল একাদশ ঠিক করবে দু দল। তবে এটুকু বলা যায় যে, টেস্ট একাদশের থেকে কয়েকটি পরিবর্তন আসছেই। দলে ফেরার সমূহ সম্ভাবনা আছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। মার্শাল আইয়ুব ওয়ানডে স্কোয়াডে না থাকায় এই পরিবর্তনটা সহজ হবে। দলে ফেরা মোটামুটি নিশ্চিত মাশরাফি বিন মুর্তজার; রুবেল হোসেনের বদলে ঢুকে পড়তে পারেন তিনি। রিয়াদ বা নাইম একাদশে থাকলে স্পিন বিকল্প বেড়ে যাবে; সে ক্ষেত্রে সাকিব-রাজ্জাক-সোহাগ তিন স্পিনার না খেলানোরও সম্ভাবনা আছে। তেমন ক্ষেত্রে সোহাগ বা রাজ্জাকের কপাল পুড়তে পারে; সে জায়গায় পেস বোলিং অলরাউন্ডার জিয়াউর রহমান ডাক পেতে পারেন। ওয়ানডে অভিষেক হয়ে যেতে পারে সফিউলের ইনজুরিতে দলে ডাক পাওয়া পেসার আল আমিনের। আর টেস্টের ফর্মহীনতার পরও সর্বশেষ ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির কারণেই ওপেনিংয়ে তামিমের সঙ্গী হিসেবে থেকে যাবেন এনামুল হক বিজয়। বাংলাদেশ দলে যখন পরিবর্তন এই অল্প কিছু, নিউজিল্যান্ড দলে এক ঝাঁক পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। তাদের ওয়ানডে স্কোয়াডে নতুন যোগই দিয়েছেন ৯ জন খেলোয়াড়। ফলে কমপক্ষে চারটি পরিবর্তন চোখ বুজে বলে দেয়া যায়। আর এসব পরিবর্তনের ফলাফল দেখতেই আজ চোখ রাখতে হবে মাঠে।