নারায়ণগঞ্জে মাঠে নেই সরকার দলীয় এমপিরা

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৪২
চলমান রাজনৈতিক আন্দোলনে মাঠে নেই নারায়ণগঞ্জের সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা। শহরে বিএনপি ও শিবিরের নেতাকর্মীরা একের পর এক তাণ্ডব চালালেও রহস্যজনক কারণে নীরবতা পালন করছেন শহর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। দলের সাধারণ কর্মীরা মাঠে নামার আশায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এসেও তালাবদ্ধ দেখে ক্ষোভ নিয়ে ঘরে ফিরে যাচ্ছেন। গতকাল বিকাল পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি ছিল তালাবদ্ধ। দলীয় সূত্র জানায়, গতকাল হরতালের বিপক্ষে সাবেক এমপি শামীম ওসমান সমর্থকরা শহরে কর্মসূচি পালন করে মিছিল করলেও বাকিদের দেখা মিলেনি। সাধারণ কর্মীরা বলছেন, বাকিরা মাঠে না থাকলেও মুখে বড় বড় বুলি আওড়ান। অপরদিকে চলমান হরতালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকানিয়েও সরকার দলীয় সমর্থক ও কর্মীদের মাঝে চলছে ব্যাপক ক্ষোভ। জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সরকার দলীয় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের সাথে কথা বললে তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রূপগঞ্জ এলাকার কর্মীরা বলেন, আমরা মাঠে নামতে চাইলেও স্থানীয় এমপি গোলাম দস্তগীর গাজীর নীরবতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। আড়াইহাজার এলাকার কর্মীরা অভিযোগ করেন, বিএনপি-জামায়াত এক হয়ে মাঠে নামলেও স্থানীয় এমপি নজরুল ইসলাম বাবু এসময় নীরবতা পালন করছেন। সোনারগাঁও এলাকার কর্মী-সমর্থকরা জানান, স্থানীয় এমপি আব্দুল্লাহ কায়সার দলের এই দুঃসময়ে কর্মীদের পাশে নেই। তিনি অপেক্ষা করছেন কবে নির্বাচন হবে আর ভোট ভিক্ষায় নামবেন। সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার কর্মীরা অভিযোগ করেন, গত ৫ বছরে এমপি কায়সারকে আমরা হাতে গোনা কয়েকবারই দেখতে পেয়েছি। হরতালের হটস্পট খ্যাত কাঁচপুরেও দেখা মিলেনি তার। এদিকে ফতুল্লা এলাকার নেতাকর্মীরা অবশ্য স্থানীয় এমপির অনুপস্থিতির কারণে তেমন ক্ষুব্ধ নন। ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল আক্ষেপের সুরে জানান, গত ৫ বছরে এমপি সারাহ বেগম কবরী দলের নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর নেয়া তো দূরের কথা তিনি চিহ্নিত বিএনপির ক্যাডারদের নিয়ে ঘোরাফেরা করেছেন। তাই হরতালে তার না থাকাটাই স্বাভাবিক। পিকেটাররা সিটি মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের বাড়ির সামনে বোমাবাজি ও দোকানপাট ভাংচুর করলেও তারা দুই জনই নিশ্চুপ রয়েছেন।