রাজধানীতে অবরোধ সংঘর্ষ ককটেল অগ্নিসংযোগ

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৪৮
বিরোধীদলের ডাকা টানা তিনদিনের হরতালের দ্বিতীয় দিন গতকাল সোমবার রাজধানীতে বিক্ষিপ্ত ককটেল বিস্ফোরণ, সংঘর্ষ, পেট্রোলে আগুন ধরিয়ে সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। যাত্রাবাড়ীতে দনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। গুলশান-২ নম্বরে পুলিশ বুথের পেছনে পার্কিং করে রাখা প্রাইভেটকারে আগুন দেয় হরতাল সমর্থকরা। ঢাকা জজ আদালতের নতুন ভবনের উত্তর পাশে ও পুলিশ সুপারের অফিসের ছাদে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পিকেটিংকালে ৫৮ জনকে আটক করে পুলিশ। ১৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বেলা আড়াইটার দিকে ফকিরাপুলের পানির ট্যাংকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর সময় বিএনপি কর্মী শহীদুল ইসলামকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশ। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়। দুপুর ২টার দিকে মগবাজারে বেসরকারি টেলিভিশন ‘চ্যানেল-24’ এবং মালিবাগে ‘এসএ টিভির’ গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে পিকেটাররা। এতে আহত ‘চ্যানেল-24’-এর সাংবাদিক রাশেদ নিজামকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুপুর দেড়টার দিকে বিজয় নগরের ‘আকরাম টাওয়ারে’র নিচে প্রাইম ব্যাংকের বুথের সামনে মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবক পুলিশকে লক্ষ্য করে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে। বেলা সাড়ে ১১টায় মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছনে ঝটিকা মিছিল বের করে স্বেচ্ছাসেবক দল। মিছিলটি কমলাপুর ও মতিঝিল অভিমুখে চার রাস্তার মোড়ে এলে পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। হরতাল সমর্থকরা দুপুর ২টার দিকে পুরনো ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটালে জাহেদা বেগম ও মো. সবুজ নামক দু’জন আহত হন। বিকাল সাড়ে ৪টায় আজিমপুর ও পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার এলাকায় হরতাল সমর্থকরা ৯টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পৌনে ১টার দিকে আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বেতার ভবনের মূল ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুই যুবক। দুপুরে খিলগাঁওয়ে আনসার একাডেমীর সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কাওরান বাজারে জনতা টাওয়ারের পাশে শ্রমিক লীগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ে কে বা কারা আগুন ধরিয়ে দেয়। সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে আব্দুল্লাহপুর-গুলিস্তান রুটে চলাচলকারী ‘৩ নম্বর পরিবহনে’র একটি বাস শাহবাগ বারডেম হাসপাতালের সামনে আসলে হরতাল সমর্থকরা আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সময়ে ওয়ারিতে বিআরটিসি বাসে ভাংচুর চালায় শিবিরকর্মীরা। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মিরপুর কালশি রোডে ২২তলা ভবনের সামনে কাভার্ড ভ্যানে আগুন লাগায়। ভোর ৪টার দিকে তেজগাঁও সাতরাস্তার মোড়ে ট্রাকে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। দুইদিনে ৩৬ মামলা ৩ জনের ৬ মাস জেল হরতালে দুইদিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মোট ৩৬টি মামলা দায়ের হয়েছে। এরমধ্যে শনিবার ১৬টি ও রবিবার ২০টি। প্রায় তিনশতজনকে আসামি করা হয়। গ্রেফতার হয় ৯৯ জন। প্রথম দিন রবিবার নগরীর ১৫টি থানায় ২০টি মামলা হয়। হাজারীবাগ এলাকায় গতকাল সোমবার আগুন দেয়ার চেষ্টার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত তিন পিকেটারকে ৬ মাসের জেল দিয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় বোতল ভর্তি পেট্রোল ও দিয়াশলাই। এরা হলেন- নাঈমুল ইসলাম (২০), শহীদ আহমেদ (২৫) ও মো. রেজাউল (২০)। জাতীয় পার্টির (এ) প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদের গুলশানস্থ বাসভবনের সামনে সকাল ১১টায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় হরতাল সমর্থকরা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সংসদ উপনেতা ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর গুলশান এভিনিউয়ে ১৫৭ নম্বর বাসার সামনে কে বা কারা দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। গতকাল রাত আটটার দিকে ঢাকা মহানগর যুবলীগের (দক্ষিণ) সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের শান্তিনগরের বাসায় সন্ত্রাসীরা কয়েকটি বোমা নিক্ষেপ এবং গুলি বর্ষণ করে। এতে ঐ এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। রাতে বিভিন্ন ব্যক্তির বাসার সামনে হামলা রাত ৮টার দিকে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর গুলশান এভিনিউয়ের বাসা লক্ষ্য করে ককটেল ছোঁড়ে দুর্বৃত্তরা। গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূরে আলম জানান, বাসার সীমানা প্রাচীরে লেগে ককটেলটি বিস্ফোরিত হয়। দুদক চেয়ারম্যান মোঃ বদিউজ্জামানের উত্তরা-৩ নম্বর সেক্টরের দুই নম্বর সড়কের ২৫ নম্বর বাসায় রাত সোয়া ৮টার দিকে ককটেল ছোঁড়ে দুর্বৃত্তরা। একই সময়ে দুদক চেয়ারম্যানের বাড়ির বিপরীত পাশে সাংবাদিক আবেদ খানের বাসার সামনেও ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালামের শান্তিনগরের ১৬২/১ নম্বর বাসা লক্ষ্য করে গুলি ছুুঁড়েছে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তারা কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণও ঘটায়। পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার আশরাফুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। রাত ৯টার দিকে ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাটের শান্তিনগরের বাসায় ককটেল হামলা চালানো হয়। একই সময়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের শাহজাহানপুরের বাসার সামনে কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের গুলশান ১১৭ নম্বর রোডের বাসার সামনে একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এদিকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মৌচাকের ফরচুন মার্কেটের সামনে ককটেল বিস্ফোরণে আহত হন দোকান কর্মচারী মনোয়ার হোসেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাংলা মোটরে দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া ককটেলের বিস্ফোরণে আহত হন রিকশা চালক জিকরুল। রাতে ফার্মগেট পুলিশ বক্স লক্ষ্য করে ককটেল ছোঁড়ে দুর্বৃত্তরা। এর আগে যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিনের মোহাম্মদপুরের বাসার সামনে কয়েকটি ককটেলের বস্ফািরণ ঘটে। সোয়া ৭টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে একটি অটোরিকশায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।