মার্কেলের ফোনে আড়ি পাতার কথা জানতেন বারাক ওবামা!

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৪৯
জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের ফোনে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসএ) নজরদারির কথা প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০১০ সাল থেকেই জানতেন নতুন এক প্রতিবেদনে এমন কথাই জানিয়েছে জার্মানির বিল্ড পত্রিকা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এনএসএ এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটির প্রধান আলেকজান্ডার কিথ এক বিবৃতিতে বলেছেন তিনি এমন কোন বিষয় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলাপ করেননি। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রগুলোর উদ্ধৃতি দিয়ে রবিবার জার্মানির বিল্ড পত্রিকা জানায়, মার্কেলের ওপর নজরদারির গোপন অভিযানের কথা ২০১০ সালে ওবামাকে ব্রিফ করেছিলেন এনএসএর তত্কালীন প্রধান আলেকজান্ডার কিথ। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে জার্মানির কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটার আশংকা তৈরি হয়েছে। ঊর্ধ্বতন এক এনএসএ কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, কিথের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পরও ওবামা এই গোয়েন্দা নজরদারি থামাতে বলেননি। বরং তা চালিয়ে যেতে বলেন। এর আগে গত ২০০২ সাল থেকে মার্কেলের ফোনে এনএসএর আড়িপাতার খবর প্রকাশ করে জার্মানির দার স্পাইগেল ম্যাগাজিন। মার্কেল চ্যান্সেলর নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকেই এ নজরদারি চলছে এবং চলতি বছরেও নজরদারির তালিকায় তার নাম ছিল বলে দাবি করা হয়েছে পত্রিকাটিতে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-জার্মানি সম্পর্কের মধ্যে নতুন করে টানাপোড়েন দেখা দিচ্ছে। জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হ্যান্স পিটার ফ্রেডেরিখ ওয়াশিংটনের কাছে বিষয়টির একটি গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। তিনি বলেন, এখন যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে এ বিষয়ে সকল তথ্য উপস্থাপনে বাধ্য। বুধবার মোবাইল ফোনে আড়িপাতার প্রথম খবরটি জানার পরই মার্কেল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে ফোন করেন। দার স্পাইগেল জানায়, ওবামা তখন এ ঘটনার জন্য মার্কেলের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানতেন না। জানলে তিনি তা থামাতেন। স্পেনে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব স্পেনের নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচরবৃত্তির প্রতিবাদে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে মাদ্রিদ। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) এক মাসে স্পেনের ছয় কোটি ফোন কলের ওপর গোপনে নজরদারি করেছে বলে গতকাল সোমবার দেশটির ‘এল পাইস’ এবং ‘এল মুন্দো’ পত্রিকায় যে খবর প্রকাশিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তার ব্যাখ্যা দাবি করেছে স্পেন। গুপ্তচরবৃত্তির এ খবর সত্য হলে মিত্রদেশের জন্য এ আচরণ মেনে নেয়া হবে অসম্ভব। এক বিবৃতিতে স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আস্থার পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্ব সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করেছে স্পেন। সেইসঙ্গে নজরদারি কর্মসূচির পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা পাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়ে স্পেন বলেছে, দুই মিত্রদেশের মধ্যে এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে তা হবে ভুল কাজ। আর তা মেনেও নেয়া যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রকে এনএসএ’র কাছ থেকে আরো তথ্য-উপাত্তও দিতে বলেছে মাদ্রিদ। স্পেনে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জেমস কস্টোসকে ডেকে পাঠান দেশটির ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বিষয়ক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইনিগো মেন্দেজ ডি ভিগো। দুইজনের বৈঠকের পর ওই বিবৃতি দেয় স্পেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ নিয়ে সৃষ্ট সন্দেহের বিষয়টি পরিষ্কার করার অঙ্গীকার করেন রাষ্ট্রদূত জেমস।