পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আশ্রয় পেতে চেষ্টা করছে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলাম কর্মী-সমর্থকরা। এর জন্য পশ্চিমবঙ্গের কিছু কওমী মাদ্রাসার ওপর প্রভাব বাড়াচ্ছে তারা। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে থাকা মাদ্রাসাগুলোতে নারী শিক্ষা বিরোধী প্রচারও চালানো হচ্ছে। দেয়া হচ্ছে সাম্প্রদায়িক উস্কানিও। সাম্প্রতিক এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে দিল্লি এবং ভারতের কওমী মাদ্রাসা নেতৃবৃন্দ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের কাছে এ ব্যাপারে একটি রিপোর্টও দেয়া হয়েছে।
উদ্বিগ্ন পশ্চিমবঙ্গের কওমী মাদ্রাসা সংগঠন গত ২৩ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার ফুলবাড়ি সীমান্তে বালাবাড়ি স্কুলে ‘সীমান্তবর্তী এলাকায় মৌলবাদী শক্তির দ্বারা নারী শিক্ষার প্রতিবন্ধকতা এবং তার প্রতিকার’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। সেখানে ৫ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে ভাষণ দেন বন্ধুনগর জামে মসজিদের ইমাম হজরত মহম্মদ মৌলানা রাজা নূর, নপানিয়া জামে মসজিদের ইমাম হজরত মহম্মদ মৌলানা মুজিবর রহমানসহ পশ্চিমবঙ্গের কয়েকশ মাদ্রাসার প্রতিনিধিরা।
সেখানে আশংকা প্রকাশ করে তারা বলেন, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে কিছু মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিরোধী ‘তালেবানি ফতোয়া’ দিচ্ছে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলাম। তারা বলছে নারী শিক্ষা ইসলাম বিরোধী। এতে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত এলাকায় কওমী মাদ্রাসার মাধ্যমে নারী শিক্ষার প্রসার প্রক্রিয়া বাধা পাচ্ছে। বাংলাদেশে সন্ত্রাস চালিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায় আশ্রয় পেতে চাইছে তারা। এখানে শিবির খোলার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি দেয়া হচ্ছে ধর্মীয় উস্কানিও। এ ব্যাপারে ভারত সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তারা সভায় অনুরোধ করেন। সভায় বলা হয়, মৌলবাদী শক্তি বাংলাদেশের সরকারে এলে সীমান্তবর্তী এলাকায় অশান্তি বাড়বে।
এরপরই নড়েচড়ে বসেছে ভারতের প্রশাসন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দিল্লির সাউথ ব্লক সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত সরকার। তাই জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি অবহিত করা হবে। বাংলাদেশ সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তের পাশাপাশি আসাম, ত্রিপুরা সীমান্তেও নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে; যাতে বাংলাদেশে কোনো রকম নাশকতা, গোলমাল করে জামায়াত, শিবির বা হেফাজতপন্থিরা ভারতে ঢুকতে বা আশ্রয় না পেতে পারে।
