গলাকাটা ভূতের আতঙ্ক

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৩, ১৮:৩৩
সে দিন বিকালে কামরুল হোসেন একটা গ্রামের ক্ষেতে চাষ করছিলো। ধীরে ধীরে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছিলো। আর একটু পরেই লাঙ্গল নিয়ে বাড়ি ফিরতো। হঠাত্ দেখতে পেলো কে যেনো তার দিকে এগিয়ে আসছে। কামরুল তার দিকে অবাক হয়ে চেয়ে থাকলো। কিন্তু তার চেহারা দেখে সে চমকে গেলো। সে কি ভয়ংকর চেহারা! কামরুলের সামনে এসে দাঁড়িয়ে রইলো একটা গলা কাটা লোক। তার দেহের ওপর অংশটি ভয়ংকরভাবে রক্তাক্ত। যেখানে গলা ও মাথা থাকার কথা, সেখানে একটি গর্ত যার থেকে রক্ত পড়ে মাটি লাল হয়ে যাচ্ছিলো। বের হচ্ছিলো বিশ্রী গন্ধ। কামরুল দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করলো, কিন্তু তার পা’দুটো যেন বরফের মত জমে গেলো। একটি বিকট চিত্কার দিয়ে সে জ্ঞান হারালো। কামরুলের চিত্কারে বেশ কিছু লোক ক্ষেতে জড়ো হলো। একজন মুরুব্বীর কথা মতো তারা কামরুলের মাথায় পানি ঢাললো— চোখ-মুখে পানি ছিটালো। এতে কামরুলের জ্ঞান ফিরলো। কিন্তু সে দাঁড়াবার শক্তি না পেয়ে পড়েই থাকলো। গ্রামবাসীদের গলা কাটা ভূতের দেখা মিললো না, সে আগেই গায়েব হয়েছে। কিন্তু রক্তের ছাপ দেখে তারা ব্যাপারটি বুঝতে পারলো। তাদের মধ্যে সেই মুরুব্বী সবাইকে সাবধান করে দিলেন যে গ্রামের হামিদ সাহেবকে কয়েক জন গুণ্ডা গলা কেটে হত্যা করেছিলো। তার দেহের থেকে বিচ্ছিন্ন মাথা ও গলা পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি দেহটি পাওয়া যায়নি। সে গলা কাটা দেহটি, অর্থাত্ গলা কাটা হামিদ প্রতিশোধের জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। ওই গুণ্ডাদের অনেকে গাছে ফাঁস লেগে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। মুরুব্বী সব কৃষকদের একা ক্ষেতে কাজ করতে বারণ করলেন এবং সাবধানতার সাথে চলাফেরা করার জন্য অনুরোধ করলেন সকল গ্রামবাসীকে। এর পর বহুদিন ধরে গ্রামবাসীরা সাবধান হয়ে চলাচল করলো। গুণ্ডারা একে একে ধরা ও মারা পড়লো সে গলা কাটা হামিদের হাতে। এ কারণে গুণ্ডাদের পরিবারেও আতংক ছড়িয়ে পড়লো। কিন্তু নিরীহ লোকদের কারও ক্ষতি হলো না। শেষে গুণ্ডা ওস্তাদ নাসিরউদ্দিন মাহম্মুদ এবং তার ডান হাত মহেষ সেরন মৃত্যুর পর গলা কাটা হামিদকে কেউই আর কখনও দেখতে পাইনি। ওদিকে কামরুল যে ভয় পেয়েছিলো তাতে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। টাকা না থাকায় প্রথমে তার বড় ভাই জামরুল হোসেন তাকে ওঝার কাছে নিয়ে যায়। কিন্তু ওঝা ভূত তাড়ানোর চেষ্টা করলে লাভ হয় না, কেননা গলা কাটা হামিদ তার উপরে আসর করেনি কিন্তু তার ভয়ংকর চেহারা দেখে কামরুল মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে গেছিলো। যেখানেই যেতো, গলা কাটা হামিদের সে বীভত্স চেহারা তার চোখে ভেসে উঠতো। ঘুমের মধ্যেও সে গলা কাটা হামিদকে দেখে চিত্কার করে উঠতো। ওঝার ব্যর্থতার পর জামরুল তার প্রাণপ্রিয় ভাইকে কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলো। কিন্তু কবিরাজও ব্যর্থ হলো। শেষে টাকা যোগাড় করে জামরুল কামরুলকে হাসপাতালে নিয়ে গেলো। সেখানে ধীরে ধীরে কামরুল সুস্থ হলো। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গ্রামে ফিরে এলে সবাই খুশি হলো। গ্রাম থেকে গলা কাটা ভূতের আতংক কেটে গেলো।