নাম তার বোতল পানি

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৩, ১৮:৩৫
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও খাবারের পরিপূরক হিসেবে বোতলজাত পানি ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে। এটি আধুনিক মনে হলেও হাজার হাজার বছরের পুরানো বিশ্ব ঐতিহ্য রয়েছে। হয়তো তখন এত প্রসার ছিল না। উল্লেখ্য যে, যীশু খৃষ্টের জন্মের অনেক আগেই এই রেওয়াজ ছিল। সে সময়ে মাটির তৈরি এক প্রকার ছোট জগে পানি বিক্রির প্রচলন ছিল। আর এটির বেশি প্রচলন ছিল রোমানদের মধ্যে এবং তারাই প্রথম বোতলজাত পানির প্রচলন শুরু করে। খৃষ্টপূর্ব (৫৮-৫০) অব্দে বেলজিয়ামের গ্যালিক নামক যুদ্ধে কারথাজিনিয়ান সেনাপতি মি. হান্নিবাল মিনারেল ওয়াটার ব্যবহার করেন। তাছাড়া যীশু খৃষ্টের জন্মের প্রায় একশ’ বছর পূর্বে মুসলিম সভ্যতার পিঠস্থান সিরিয়াতে কাঁচের তৈরি বোতলে পানি বিক্রির প্রচলন ছিল। এ ছাড়া সপ্তদশ শতকে ফ্রান্সে এই পানি ব্যবহার জোরেসোরে শুরু হয়। তখন ইউরোপে সংস্কার ভিত্তিক বিশ্বাস ছিল যে, বোতলজাত খনিজ ও ঝর্ণার পানি খেলে কিডনীর পাথর নষ্ট হয় এবং আয়ু বৃদ্ধির পথ সুগম হয়। এ কারণে ইউরোপ ও আমেরিকায় এর ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে প্রচলিত বোতলজাত পানির সুতিকাগার ফ্রান্সকে বললে অত্যুক্তি হবে না। কারণ প্রথম ফ্রান্সে বোতলজাত পানি শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং এটি সামনে রেখে ১৮৫৫ সালে ফ্রান্সে আইনগত দিক দিয়ে প্রতিষ্ঠা পায়। উল্লেখ্য যে, বোতলজাত পানির বর্তমান অবস্থান একদিনে আসেনি, বিভিন্ন চড়াই উত্রাই পার হয়ে আজ সারাবিশ্বে মনুষ্য জীবনে অনেকাংশে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। আর প্রথম যে বোতল পানি প্রস্তুত হয়েছিল, তার নাম ছিল ‘ব্লব টপস’ যা কাঁচের বোতলে তৈরি এবং এক ধরনের ছিপি দ্বারা আটকানো ছিল। এটি স্বাস্থ্যসম্মত না হওয়ায় বৈজ্ঞানিকরা নানাভাবে সচেষ্ট হন এবং শেষ পর্যন্ত আবিষ্কৃত PET (Polythylene Terephthalate) ভিত্তিক প্লাস্টিক বোতল বিপ্লব ঘটায়। আজ সুপেয় পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বোতল পানি সারা বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়। অবশ্য এক্ষেত্রে পানির গুণাগুণ সমুন্নত রাখতে যোগ হয়েছে অভিশ্রবণ (Reverse Osmosis) পদ্ধতি এবং কাম্য মাত্রা মিনারেল ডোজিং। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে বোতলজাত পানির প্রথম পদচারণা শুরু হয় ১৯৯০ সালের দিকে এবং এক্ষেত্রে ‘একুয়া’ ও ‘এভারেস্ট’ নামে বোতল পানি প্রথম বাজারে আসে। এদিকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বোকৃষ্ট ‘শান্তি’ ব্রান্ডের পানি ঢাকা ওয়াসা ২০০৭ সালে মার্কেটিং শুরু করে। আজ বাজারে জারসহ অনেক ধরনের পানি দেখা যায়। আয়ু নির্ধারণের ক্ষেত্রে দেহের অন্যান্য অপরিহার্য অঙ্গের মতো কিডনী সবিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর কিডনী সচল রাখতে বিশুদ্ধ পানির বিকল্প নেই।