জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

ফের জেগেছে ক্যাম্পাস

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৩, ১৮:৪২
মুসলমানদের ধর্মীয় উত্সব ঈদুল আজহা ও সনাতনদের শারদীয় দুর্গাপূজার পরে আবার জমে উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ছুটিতে ক্যাম্পাসের প্রতিটি প্রাঙ্গণ কোলাহল মুক্ত থাকলেও শিক্ষার্থীদের পদচারণায় আবারো প্রতিটি স্থান মুখরিত। বন্ধুরা মিলে ভাগাভাগি করে নিচ্ছে ঈদের ছুটিতে ঘটে যাওয়া নানা স্মৃতি। বাড়ি ফেরত শিক্ষার্থীদের আগমনে প্রাণোচ্ছল হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। টিএসসি, শহীদ মিনার, কেন্দ্রীয় মাঠ, টারজান পয়েন্ট, মুন্নী চত্বর, ট্রান্সপোর্ট, লাইব্রেরীসহ প্রতিটি প্রাঙ্গণে বিরাজ করে পুরোনো মুখরিত সেই হাওয়া। ক্যাম্পাস ফিরে পেয়েছে তার চিরচেনা রূপ। আগের মতোই দলবেঁধে আড্ডার আমেজ দেখা যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা এক বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ক্যাম্পাসের সর্বত্র। বিশ্ববিদ্যালয় লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী রিফাত, সুলতান, ঈশা, সাদিয়া, রেজা জানালেন- ‘মায়ের হাতের তৈরি ঈদের পিঠাপুলি প্রিয় বন্ধু-বান্ধবীদের জন্য এনেছি খাওয়ানোর জন্য’। দই ও কাঁচাগোল্লা এনেছেন নাটোরের মাইনুল। বিশ্ববিদ্যালয়ের জাহানারা ইমাম হলের শিক্ষার্থী সামিয়া, রিয়া, সানজিদা, ইভা, নূপুর ঈদ আনন্দ প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘রোজার ঈদের চেয়ে কোরবানির ঈদে বাসায় কাজের হুলুস্থূল বেশি। তবে সবার বাড়িতে কোরবানি থাকায় ঈদের দিনে মেজবানি কম করতে হয়’। একইভাবে পূজার আনন্দ শেয়ার করলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিজিত, পিংকু ও দেবাশিস। তারা বলেন, ‘দুর্গাপূজা জীবনের দৈন্যতা ও জীর্ণতা মুছে শরীর-মনে এনেছে অনাবিল পুলক ও প্রশান্তি।’ এই আমেজ কাজে লাগিয়ে তারা ক্যাম্পাস জীবনেও সব জীর্ণতা ধুয়েমুছে থাকতে চান। শহীদ মিনার প্রান্তরে আড্ডারত অর্থনীতি বিভাগের সুমাইয়া জানান, নাড়ির টানে বাড়ি ফিরে যাই ঠিকই; কিন্তু ক্যাম্পাসে মন পড়ে থাকে সারাক্ষণ। সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শারমিন জানান, ক্যাম্পাস হলো একটি পরিবার। আর এক পরিবার ছেড়ে আরেক পরিবারে গিয়েছিলাম কয়েক দিনের জন্য মাত্র।