নিউ ইয়র্ক! বিশ্বের ব্যস্ততম শহরগুলোর একটি হিসেবে স্বীকৃত এই শহরটি নানা সময়ে যেমন অসংখ্য চমক জাগানিয়া ঘটনার কারণে সংবাদ শিরোনাম হয়েছে তেমনি শহরের অধিবাসী আর ব্যবসায়ীরা সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন এখানে প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া নানা দুর্ঘটনা আর অপরাধবিষয়ক সংবাদের কারণেও। বিশেষ করে অস্ত্রের মুখে কোনো দুস্কৃতকারীর কোথাও অনুপ্রবেশ করা এবং সেখানে অপরাধ সংগঠন করা এখানকার মানুষদের কাছে মোটেও নতুন ধারার কোনো বিষয় নয়। কিন্তু তাই বলে কোনো ধরনের অস্ত্র বা ভয়ভীতি না দেখিয়েই ব্যস্ত কোনো সুপারস্টোরে ফিল্মি কায়দায় ঢুকে পড়াটা এখানকার আর দশটা স্বাভাবিক ঘটনার মতো নয়। আর এই কর্মটিই যদি মানুষ না হয়ে একদল হাঁসের মাধ্যমে হয় তাহলে চমকের মাত্রাটাও বাড়ে বৈকি! আর এমনই এক চমকপ্রদ ঘটনা সম্প্রতি ঘটেছে নিউইয়র্কের সারাটোগা স্প্রিংসে অবস্থিত একটি ফার্মেসি শপে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সেদিন আর দশটা দিনের মতো স্টোর খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই স্টোরটির দু’পাশের স¬াইডিং ডোর দিয়ে অতর্কিতে ঢুকে পড়ে গোটা পঞ্চাশেক হাঁস। এ সময় হতচকিত হয়ে পড়া দোকানকর্মীরা প্রথমে হাতের কাছে থাকা ঝাড়ু ও লাঠি দিয়ে হাঁসগুলোকে তাড়ানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। বরং এভাবে তাড়া খেয়ে সেগুলো স্টোরের মধ্যে নিজেদের অবস্থানকেও আরও বিস্তৃত করে। এ সময় স্টোরের অপর এক কর্মীর উপস্থিত বুদ্ধিতেই ঝামেলার হাত থেকে বেঁচে যান সবাই। ঐ কর্মী পপকর্নের বেশ কিছু কার্টন ও প্যাকেট দেখিয়ে নির্বিঘ্নেই হাঁসগুলোকে প্রলুব্ধ করতে সক্ষম হন। আর এই পপকর্নের লোভেই অন্য সবকিছুর আশা ত্যাগ করে স্টোরের বাইরে বেরিয়ে আসে হাঁসেদের দল। এদিকে হাঁসেদের এই অতর্কিত উপস্থিতিতে স্টোরটির বড় ধরনের ক্ষতি না হলেও বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে গৃহপালিত প্রাণীদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে কাজ করা প্রাণীবিজ্ঞানীদের। ঠিক কী কারণে হাঁসগুলো এভাবে দলবেঁধে ফার্মেসি স্টোরটিতে প্রবেশ করেছিল এখন সেটিই গবেষণা করে বের করার চেষ্টা করছেন তারা।
