মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা স্থগিত করলেও কানাডা তা করেনি। বরং এই জিপিটি (জেনারেল প্রিফারেন্সিয়াল ট্যারিফ) সুবিধা আরো ১০ বছর অব্যাহত রাখবে। তারপরও বাংলাদেশের গার্মেন্ট নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন গণমাধ্যম কানাডায় নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে। সম্প্রতি কানাডার জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিবিসি টেলিভিশন ‘ফিফথ স্টেট’ অনুষ্ঠানে এক লোমহর্ষক প্রামাণ্যচিত্র: ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ প্রচার করে।
পরে জাতীয় দৈনিক গ্লোব অ্যান্ড মেইলও তাদের উইকএন্ড প্রচ্ছদ নিবন্ধ ‘দ্য ট্রু কস্ট অব এ টি-সার্ট’ প্রকাশ করে। তাদের ‘রিপোর্ট অন বিজনেস’ সেকশনে ফাস্ট ফ্যাশনের পুলিশিং অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশ করে। গত সপ্তাহেও আরেক জাতীয় দৈনিক টরন্টো স্টার তাদের আন্তর্জাতিক পাতায় স্টাফ রিপোর্টার রিক ওয়েস্টহেড রচিত ‘মিট দ্য কানাডিয়ান হু ইজ মেকিং এ বাক ইন বাংলাদেশ দ্য সেফ ওয়ে’ শিরোনামযুক্ত নিবন্ধে এই শ্রমমজুরির চাঞ্চল্যকর তথ্যটি তুলে ধরেছেন। তাতে বেতনভাতা, নিরাপত্তা, মাতৃত্বকালীন ছুটি, চিকিত্সার চিত্র প্রতিফলিত হয়।
এছাড়াও কানাডার সিনেটর সালমা আতাউল্লাহ জান সম্প্রতি ঢাকায় রানা প্লাজা দর্শন করে ফিরে এসে জানান, অতি অল্প মজুুরি আর চরম ঝুঁকির মধ্যে শ্রমিকরা কাজ করেও ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম অমানবিক জীবন যাপন করে। এই দুরবস্থা তিনি আগামী সিনেট অধিবেশনে তুলে ধরবেন।
ইতোপূর্বে টরন্টোর জনপ্রিয় ইয়র্কডেল মলের ট্রিশটান (TRISTAN) ফ্যাশন হাউজের সামনে সাইন বোর্ডে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প বিরোধী প্রচারণা তুলে ধরা হয়।
এসব নেতিবাচক প্রচার ঠেকাতে ওটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। হাইকমিশনার কামরুল আহসান ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, তিনি ইতোমধ্যে ডিপার্টম্যান্ট অফ ফরেন এ্যাফায়ার্স, লবলো’জ, কসস্কো, সিয়ার্সসহ যে সব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি করে তাদের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তার সাথে বৈঠক করছেন এবং আগামী ৩১ অক্টোবর পার্লামেন্টে স্পিকার অফ দ্য সিনেটের সাথে বৈঠক করবেন।
এদিকে, গ্রোসারী জায়ান্ট হিসেবে খ্যাত কানাডার লবলো’জ রানা প্লাজা ধসে নিউ ওয়েভ স্টাইল ফ্যাক্টরির ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পরিবার-পরিজনকে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এখানে এক ঘোষণায় লবলো’জ বলেছে যে, তাদের জোফ্রেশ ব্র্যান্ডের গার্মেন্ট পণ্য উত্পাদনে রানা প্লাজার নিউ ওয়েভ ফ্যাক্টরিতে নিয়োজিত ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পরিবার-পরিজনকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি ৩ মাসের মজুরি প্রদান করবে। ইতিমধ্যে লবলো’জ বাংলাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত গার্মেন্ট শ্রমিকদের সহযোগিতায় ‘সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ’ ও ‘সেন্টার ফর রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড’ প্রতিষ্ঠান দুটিকে ১ মিলিয়ন ডলার অর্থাত্ সাড়ে ৭ কোটি টাকা প্রদান করেছে।
