প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের সম্পদ বিক্রি করতে আসিনি। বরং রক্ষা করতে এসেছি। দেশকে আমরা আলোকিত করব। বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতা ১০ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছালে দেশে উত্সব হবে। গ্যাস রফতানিতে রাজি না হওয়ায় ২০০১ সালে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে দেয়া হয়নি। দেশ শিগগিরই ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনের মাইলফলক স্পর্শ করবে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কাওরান বাজারে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এন্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) ভবন উদ্বোধন এবং গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)-এর আগারগাঁওয়ের কার্যালয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের ৬২ শতাংশ মানুষ বিদ্যুত্ সুবিধার আওতায় এসেছে। তেল ও গ্যাস উত্তোলনে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিতে এই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানির অংশীদারিত্ব থাকতে হবে। প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাসহ এর জনশক্তিকে বিদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। যেন তারা কাজের মধ্য দিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং নিজেদের দক্ষ করে তুলতে পারে।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের লক্ষ্য হচ্ছে দেশ ও জনগণকে আলোকিত করা। আমাদেরকে আর একবার জাতিকে সেবার সুযোগ দেয়া হলে প্রত্যেক বাড়িতে বিদ্যুত্ পৌঁছে দিয়ে দেশ ও জনগণকে আলোকিত করবো। আশাকরি, আমরা তাতে সক্ষম হবো। উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সূর্য, সমুদ্র ও মাটির নিচের সম্পদকে কাজে লাগাবো। এজন্য সকলের সহযোগিতা চাই। বিশ্বে জ্বালানি চাহিদার প্রায় পুরোটাই মেটানো হয় জীবাশ্ম জ্বালানি তথা তেল, গ্যাস ও কয়লা থেকে। আমরা ভাগ্যবান যে, আমাদের গ্যাসের ভাল মজুদ আছে। ইনশাল্লাহ, ভবিষ্যতে আরো পাবো।
শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার শুরু থেকেই গ্যাস অনুসন্ধান, উত্পাদন, সঞ্চালন ও গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণের উদ্যোগ নেয়। সুন্দলপুর ও শ্রীকাইলে দু’টি নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রে ওয়ার্কওভার কূপ খননের মাধ্যমে উত্পাদন বাড়ানো হয়েছে। দৈনিক গ্যাস উত্পাদন ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট বেড়েছে। এই গ্যাস দিয়ে বিদ্যুত্ ও সার উত্পাদিত হচ্ছে। বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক জ্বালানি হিসেবেও গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুত্ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে প্রায় ৩০ লাখ সৌর বিদ্যুত্ চালু করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধ মামলায় জিতেছে। এর ফলে পূর্ব বঙ্গোপসাগরের ১ লাখ ১১ হাজার ৬৩১ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোজাম্মেল হক খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম, বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুবিদ আলী ভুঁইয়া, স্থানীয় সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান খান কামাল বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর।
প্রধানমন্ত্রী গাজীপুর যাবেন আগামীকাল
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল বৃহস্পতিবার গাজীপুরে আসছেন। তিনি গাজীপুরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এরপর তিনি চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তৃতা করবেন।
প্রধানমন্ত্রী বেলা ২টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে গাজীপুরে এসে পৌঁছবেন। স্থানীয় সার্কিট হাউজে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর সরাসরি ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠে জনসভাস্থলে যাবেন। সেখানে তিনি সুইচ টিপে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও মোড়ক উন্মোচন করে বিভিন্ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। বেলা আড়াইটায় জনসভায় যোগ দিবেন।
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, সাসেক সড়ক সংযোগ (জয়দেবপুর-চন্দ া-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা) মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ, নবীনগর-ডিইপিজেড-চন্দ া সড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ, গ্রেটার ঢাকা সাসেটইনেব্ল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট (গাজীপুর-এয়ারপোর্ট), দ্বিতীয় কাঁচপুর, দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতু নির্মাণ এবং বিদ্যমান সেতু পুনর্বাসন প্রকল্প, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ভবন, শ্রীপুর, সম্প্রসারিত শ্রীপুর উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন, গাজীপুর ৫২ মেগাওয়াট ডুয়েল ফুয়েল পাওয়ার প্ল্যান্ট, রাজবাড়ী মাঠের সংস্কার/ সৌন্দর্য বর্ধন প্রকল্প, শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়াম-টঙ্গী, ৪০ মি: গার্ডার ব্রিজসহ লতিফপুর-ভাওয়াল-মির্জাপুর জিসি রাস্তা কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন, হবুয়ারচালা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত শ্রেণীকক্ষ নির্মাণকাজ, শ্রীফলতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শ্রেণীকক্ষ ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও নির্মাণকাজ, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল-টঙ্গী, বরমা-সিংহশ্রী রাস্তার শীতলক্ষ্যা নদীর উপর ৩১৫ মিটার পিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প উদ্বোধন করবেন। এছাড়া ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভ্লপমেন্ট প্রজেক্ট-এর আওতায় নির্মিতব্য লাইন-৬ (মেট্রোরেল), ১৫০ মেগাওয়াট ডুয়েল ফুয়েল পাওয়ার প্ল্যান্ট, ৫০০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল গাজীপুর, ট্রমা সেন্টার, নার্সিং ইন্সটিটিউট, উপজেলা আইসিটি ট্রেনিং এন্ড রিসোর্স সেন্টার ফর এডুকেশন-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। জনসভা সফল করার লক্ষ্যে প্রতিদিনই জেলার বিভিন্নস্থানে মিছিল ও সমাবেশ হচ্ছে।
