রাজধানীতে বোমা হামলা পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩৬
মন্ত্রীর বাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ, পুলিশের ওপর আক্রমণ, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর, অবরোধ, ব্যাপক ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশের সঙ্গে পিকেটারদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যদিয়ে গতকাল বিরোধী দলের ডাকা ৬০ ঘণ্টার হরতাল শেষ হয়েছে। ভোরে হরতাল সমর্থকদের ছোঁড়া ককটেলে গুরুতর আহত হন হাজারীবাগ থানার ওসি মাইনুল ইসলাম। সকালে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর বনানী এক নম্বর সড়কের ১১ নম্বর বাসার সামনের রাস্তার পাশ থেকে ২০টি ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ। দয়াগঞ্জ রেললাইনের পাটাতনে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। জুরাইনের বালুর মাঠের বিস্ফোরিত ককটেলে নয় বছরের শিশু রহিমা আক্তার গুরুতর আহত হয়। এদিকে পিকেটিংকালে গতকাল নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে ৪১ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দুপুরে পুরানা পল্টন মোড়ে চলন্ত গাড়ি থেকে ফাঁড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশকে লক্ষ্য করে ৪টি ককটেল নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। দুপুর সাড়ে ১২টায় শ্যামপুর জুরাইন বালুর মাঠ এলাকায় হরতাল সমর্থনে একটি মিছিল বের করে শিবির কর্মীরা। মিছিল থেকে চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিস্ফোরিত ককটেলের আঘাতে দুই পথচারী আহত হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় যাত্রাবাড়ী জুরাইন মাদ্রাসা রোডে অবস্থিত সরকার ফিলিং স্টেশনের সামনে মিছিল বের করে শিবির। মিছিল থেকে তারা পরপর ৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। বেলা সোয়া ১১টায় যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় হরতাল সমর্থনে বিএনপি একটি মিছিল বের করে। মিছিল থেকে তারা পরপর ৬টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। সকাল সাড়ে ১০টায় রায়েরবাগ সাদ্দাম মার্কেট এলাকায় শিবির কর্মীরা মিছিল বের করে। এ সময় তারা টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ঘটনাস্থল থেকে এক শিবির কর্মীকে আটক করে পুলিশ। সকাল সাড়ে ৭টায় কুতুবখালীতে রাস্তায় পেট্রোল ঢেলে ও টায়ারে আগুন দিয়ে সড়ক অবরোধ করে হরতাল সমর্থকরা। পরে পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়। ভোর ৬টায় দয়াগঞ্জ রেল লাইনে পেট্রোল জ্বালিয়ে রেল যোগাযোগ বন্ধ করার চেষ্টা করে হরতাল সমর্থকরা। পরে এলাকাবাসী এসে আগুন নিভিয়ে ফেলে। দুপুর পৌনে ১টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের ব্যানারে ঝটিকা মিছিল বের করে শিবির কর্মীরা। পরে পুলিশ ধাওয়া দিলে ৪টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তারা পালিয়ে যায়। বেলা পৌনে ১২টার দিকে মহাখালীতে অবস্থিত একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কার্যালয়ের সামনে থেকে ৪টি তাজা ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ। কার্যালয়টি সংগঠনটির নির্বাহী সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের বাড়িতে অবস্থিত। সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে পশ্চিম জুরাইনের বালুর মাঠের পাশে হরতালের সমর্থনে একটি ঝটিকা মিছিল বের করে জামায়াত-শিবির। এ সময় তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ করে হরতাল সমর্থকরা। মিছিলটি চলে যাওয়া পরে সেখানে অবিস্ফোরিত অবস্থায় ১টি ককটেল কুড়িয়ে পায় নয় বছরের শিশু রহিমা আক্তার। ককটেলটি নিয়ে খেলার সময় এটি বিস্ফোরিত হয়ে গুরুতর আহত হয় রহিমা। শিশুটির চোখসহ শরীরে বিভিন্ন অঙ্গ স্প্লিন্টারের আঘাতে ঝলসে যায়। বেলা পৌনে ১১টার দিকে ভাটারা এলাকায় আমেরিকান সেন্টারের কাছে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ সময় পুলিশ একজনকে আটক করে। সকালে ১০/১২ জন শিবির কর্মী সায়েদাবাদ এলাকায় রেললাইনের পাটাতনে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয় লোকজন ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে। সকাল ১০টার দিকে পুরানো ঢাকার নাজিরা বাজার চৌরাস্তার মোড়ে হরতালের সমর্থনে মিছিল যুবদল মিছিল বের করলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা তা কভার করতে যায়। এক পর্যায়ে পুলিশ মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে শর্টগানের গুলি ছুঁড়লে একটি গুলি চ্যানেল আইয়ের ক্যামেরা ম্যান মাসুদুর রহমানের গায়ে লাগে। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সকাল ৯টার দিকে হরতালের সমর্থনে মালিবাগ মোড় থেকে কিছুটা সামনে খিলগাঁওমুখী রাস্তায় পরপর ৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় ওই এলাকায় দায়িত্ব পালনে থাকা র্যাবের একটি দল দুর্বৃত্তদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। প্রায় একই সময়ে মালিবাগ থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে খিলগাঁও এলাকায় রাস্তায় আগুন ধরিয়ে সড়ক অবরোধ করে হরতাল সমর্থকরা। পুলিশ ধাওয়া দিলে তারা ৭/৮টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর মহাখালী এলাকায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। ককটেলটি মাটিতে পড়ার আগেই বিস্ফোরিত হয়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয় লক্ষ্য করে কে বা কারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। দুপুর পৌনে ৩টায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের শাহজাহানপুরের বাসার সামনে কে বা কারা কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ সময় একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। সকালে হাতিরঝিলে রামপুরা সংলগ্ন দুই ব্রিজের মাঝামাঝি স্থানে স্থানীয় ছাত্রদল ঝটিকা মিছিল বের করে। পুলিশ ধাওয়া দিলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ৪/৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে পুলিশ চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। এ সময় ফের পুলিশকে লক্ষ্য করে আরো ৪/৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে রাস্তায় পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। সকালে ধানমন্ডির ৯/এ এলাকায় হরতালের সমর্থনে জামায়াত-শিবির কর্মীরা জড়ো হতে থাকে। এ সময় সেখানে অবস্থানরত হাজারীবাগ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত (ওসি) কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম গাড়ি থেকে নেমে তাদের দিকে যেতে চাইলে হরতাল সমর্থকরা কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করে। এতে গুরুতর আহত হন ওসি। ভোরে তেজগাঁও কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ইটিসি পরিবহনের একটি বাস ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় পিকেটাররা। সকাল ৬টায় বাংলামটরে ১০/১২ জন যুবক হরতালের পক্ষে শ্লোগান দিয়ে ৭/৮টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। একই সময়ে সাইন্সল্যাবের সামনে চলন্ত মোটর সাইকেল থেকে ছুঁড়ে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সকাল পৌনে ১০টার দিকে বাড্ডা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে সাতটি হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায় হরতাল সমর্থকরা। সকাল সাড়ে ৭টায় চিড়িয়াখানার রাস্তায় পিকেটারদের ছোঁড়া ককটেলে আহত হয়েছেন মিরপুরের শাহ আলী থানার এসআই সাইফুল ইসলাম। এ ঘটনায় মো. কবির নামক যুবদলের এক কর্মীকে আটক করা হয়েছে। গুলিস্তান ফুলবাড়িয়ায় বঙ্গবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে দুপুর ২ টার দিকে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। সকালে ফার্মগেটে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাব ও মুক্তাঙ্গনে একই সাথে ৩/৪টি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় প্রেসক্লাবসহ আশাপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ এসে একটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে। একই সময়ে নাশকতার চেষ্টাকালে সেন্ট্রাল রোড থেকে ৪টি ককটেলসহ ঢাকা কলেজের ছাত্র তুহিনকে আটক করে পুলিশ। সকাল ১০ টার দিকে রমনার মগবাজারের কাঁচাবাজরে পিকেটারদের বোমায় নির্মল নামক এক এক ব্যক্তি আহত হন।