হরতালের শেষ দিনে গতকাল মঙ্গলবার মহানগর বিএনপি কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনে এবং আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। সমাবেশে বক্তৃতা দেয়াকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের সামনে হাতাহাতি করেছে নগর বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপ। এছাড়া মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও গাড়ি ভাংচুর করা হয়। সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। হরতাল ঘিরে জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক থাকায় আগের দু’দিনের মত গতকালও শহরের পরিস্থিতি ছিল থমথমে। রাস্তাগুলো ছিল প্রায় যানবাহন শূন্য। পাড়া-মহল্লায় কিছু দোকানপাট খোলা থাকলেও বড় রাস্তার পাশে দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। বন্দরটিলা, আগ্রাবাদ একসেস রোড, কর্নেলহাট এলাকায় হরতালের সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে ১০ জনকে আটক করেছে।
চট্টগ্রামে তিনদিনে আটক ৮০
১৮ দলীয় জোটের ৬০ ঘন্টা হরতাল চলাকালে চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৮০ জনকে আটক করা হয়েছে। হরতালে নৈরাজ্য সৃষ্টির অভিযোগে এদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। অন্যথায় তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে বলে পুলিশ জানায়।
ধাওয়া খেয়ে পানিতে ডুবে যুবকের মৃত্যু
চট্টগ্রামের বোয়ালখালিতে পানিতে ডুবে অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের (২৭) মৃত্যু হয়েছে। হরতাল সমর্থক ও বিরোধীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় আত্মরক্ষার জন্য পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে তিনি মারা গেছেন বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় উপজেলার ফুলতলী এলাকার রাইখালি খাল থেকে যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সন্ধ্যা ৭টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত পুলিশ মৃত ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি।
