ক্রমবর্ধমান সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতিতে উদ্বিগ্ন বিদেশি কূটনীতিকরা। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে প্রায় ১৫ জন বিদেশি কূটনীতিক এক জরুরি বৈঠকে বসেন এবং বাংলাদেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। কানাডার হাই কমিশনারের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে সংঘাত এড়িয়ে সংলাপের পথে অগ্রসর হওয়ার আহবান জানান তারা। কূটনীতিকদের এ বৈঠকের পর কানাডা হাই কমিশনের এক বিবৃতিতে বিদ্যমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে আস্থার সঙ্গে সংলাপে বসার আহবান জানানো হয়। কানাডার হাই কমিশনার হিদার ক্রুডেনের বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মানি, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, জাপান, তুরস্কসহ গুরুত্বপূর্ণ দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনরা উপস্থিত যোগ দেন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, চলমান সহিংসতা ও হতাহতের ঘটনায় কূটনীতিকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা সকল রাজনৈতিক দলকে সহিংসতা পরিহার করে সংঘাত নিরসন ও সামাজিক বিভক্তি রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন।
কানাডার হাইকমিশনের বিবৃতিতে বলা হয়, রাজনৈতিক দলের বা গোষ্ঠীর সহিংস আচরণ মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদের মূল্যবোধের বিরোধী। রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে সকল ধরনের সহিংসতা থেকে বিরত থেকে চলমান রাজনৈতিক ইস্যু সমাধানের জন্য সংলাপের পথে অগ্রসর হওয়া উচিত। যাতে আগামী সাধারণ নির্বাচন স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক, বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ হয়। তারা আরো বলেন, এ সহিংস পরিস্থিতি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও দরিদ্রদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা উচিত। আমরা বিশ্বাস করি, সহিংসতা কখনোই প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সকল রাজনৈতিক দলকে একে-অপরের মত প্রকাশ ও সভা-সমাবেশের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো উচিত। রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে সম্পৃক্ত হওয়ার আহবান জানিয়ে কূটনীতিকরা বলেন, চলমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে আস্থার পরিচয় দিতে হবে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের উপায় খুঁজে বের করতে সরকার ও বিরোধীদলগুলোর মধ্যে সংলাপ হওয়া জরুরি। আস্থাপূর্ণ রাজনৈতিক সংলাপ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতা মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়ক হবে বলেও তারা মনে করেন।
