ট্রাইব্যুনাল থেকে সব বিচারপতির পদত্যাগ

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫০
মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতাদের বিরুদ্ধে সংঘাতে উসকানি দেয়ার মামলার বিচার চলছে যে ট্রাইব্যুনালে তার বিচারপতিরা এই বিচারপ্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ব্রাদারহুড প্রধান মোহাম্মদ বাদায়িসহ কয়েকজন শীর্ষনেতার বিরুদ্ধে বিচারের সাথে জড়িত তিন সদস্যের প্যানেলের প্রধান ও তার সহযোগী বিচারপতিরা গতকাল মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। তারা ‘বিবেকের তাড়নায়’ পদত্যাগ করছেন বলে উল্লেখ করেছেন। খবর এনডিটিভি ও দ্য টেলিগ্রাফের। সূত্র জানায়, ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ ফাহমি আল-কারমুতি গতকাল মামলার শুনানির শুরুতেই বলেন, ‘বিবেকের তাড়নায় এই মামলা থেকে সংশ্লিষ্ট বিচারপতিরা পদত্যাগ করছেন। তবে অভিযুক্তরা অবশ্যই আটক থাকবেন।’ তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা না দিয়েই কক্ষ ত্যাগ করেন। ধারনা করা হচ্ছে, এখন সরকার ব্রাদারহুডের আটক নেতাদের বিচার করার জন্য নতুন বিচারপতি নিয়োগ করবে। অভিযুক্তদের আইনজীবী মোহাম্মদ দামাতি বলেন, এই মামলায় কোনো সাক্ষী নেই। কেবলমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হয়রানি করার জন্য মামলাগুলো করা হয়েছে। এই ট্রাইব্যুনালে ব্রাদারহুডের শীর্ষনেতা ছাড়াও আরো ৩২ জনের বিচার চলছে। তবে গতকালের শুনানির সময় কাউকে আদালতে হাজির করা হয়নি। কায়রোতে গত ৩০ জুন এক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় নয়জন বিক্ষোভকারীকে হত্যার সাথে জড়িত দাবি করে ব্রাদারহুড শীর্ষনেতা মোহাম্মদ বাদায়িসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়। দোষী প্রমাণিত হলে তাদের মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। ব্রাদারহুডের আটক অপর ২৯ নেতার বিরুদ্ধে সহিংসতায় অংশ নেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ৩০ জুন নিহত হওয়া এক বিক্ষোভকারীর পিতা গতকাল আদালতে হাজির ছিলেন। বিচারপতিরা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানানোর পর তিনি চিত্কার করে বলতে থাকেন, বাদায়িসহ অভিযুক্তদের ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড চাই। আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই।’ উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন মিসরের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির পদত্যাগের দাবিতে লাখ লাখ লোক বিক্ষোভ শুরু করে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ছিল, মুরসি কেবল ব্রাদারহুডের স্বার্থ রক্ষা করে চলেছেন। ৩ জুলাই সেনাবাহিনী মুরসিকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে। কায়রোর একটি পৃথক আদালতে ‘হত্যাকাণ্ডে উসকানি’ দেয়ার অভিযোগে মুরসিরও বিচার চলছে।