ফরিদপুরে সরকারি প্রকৌশলীকে পেটালেন আওয়ামী লীগ নেতারা

আপডেট : ২০ মে ২০১৯, ০০:৩৭

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সমরজিত ঘরামী ও তিনজন অফিস সহকারীকে পিটিয়ে আহত ও অফিসের ভেতর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সেখান থেকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর রাজনৈতিক সচিব ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল হক অপুকে আটক করে। মারধরে ওই প্রকৌশলী ছাড়াও আহত হন অফিস সহকারী মো. সেলিমুজ্জামান, মো. সাঈদুল ইসলাম ও বলাই চন্দ  দাস।

স্থানীয় লোকজন ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সমরজিত ঘরামীকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা হাসপাতালে চিকিত্সা দেন। এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ হতে সমরজিত বাদী হয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান রাজা ও এনামুল হক অপুকে আসামি করে ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের   করেছেন। ঘটনার পর থেকে উপজেলা প্রশাসনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা এই ঘটনার বিচার দাবি করেছেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী সাঈদুর রহমান বলেন, সকালে আওয়ামী লীগের দুই নেতার সঙ্গে কথা কাটাকাটি এবং মারপিটের খবর আমাদের কাছে এলে আমরা দ্রুত পুলিশ পাঠাই। সেখান থেকে একজনকে আটক করি। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) হিমাদ্রী খীসা বলেন, সরকারি একজন কর্মকর্তা তার দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা করে থাকলে তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট লিখিত অভিযোগ দেয়া যেতে পারে। কিন্তু তাদের এভাবে মারপিট কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে এবং একজন অভিযুক্ত আটক হয়েছেন। আশা করব পুলিশ দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি আসামিকেও আটক করবে।

এব্যাপারে সমরজিত ঘরামী বলেন, সকালে আমি ও আমার সহকারীরা অফিস খুলতেই আকরামুজ্জামান ও এনামুল হক অফিস রুমে ঢোকেন। এসময় তারা আমার কাছে ৫টি টিউবওয়েল দাবি করেন। আমি আইন বহির্ভূত কোনো কাজ করতে পারব না বলা মাত্রই তারা আমার উপর চড়াও হন। আমি তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করলে আমাকে মারতে মারতে অফিস কক্ষের ভেতরে তালা দিয়ে দেয়। এসময় অফিস সহকারীরা বাধা দিতে এলে তাদেরকেও মারধর করা হয়।

এব্যাপারে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাই সাংবাদিকদের কাছে কোনো ধরনের বক্তব্য দিতে রাজি হননি। ঘটনার পরপরই  উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান রাজা এলাকা ত্যাগ করেছেন।