বিমান ইঞ্জিনিয়ার হতে চাইলে

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০১৩, ২১:১৫
উড়োজাহাজের ইঞ্জিনিয়ার মানে এয়ার ক্রাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার (এএমই)। এএমই লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তি উড়োজাহাজের যাবতীয় এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করে। বিশেষ করে অ্যারোপ্লেন উড্ডয়নের আগে এর সব সিস্টেম ঠিক আছে কিনা তা সম্পর্কে পাইলটরা সব ধরনের তথ্য নিয়ে থাকে তার কাছ থেকেই। উড়োজাহাজের যাত্রী এবং পাইলটদের জীবন ও তাদের নিরাপদে পৌঁছানোর অনেক কিছুই নির্ভর করে এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ারের উপর। কেননা সে যদি কোনো ভুল তথ্য দিয়ে থাকে, তবে উড়োজাহাজ নিয়ে নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছানো দূরূহ বিষয় হয়ে পড়ে। এই ডিগ্রির আরও কিছু নাম আছে। যেমন, অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং, উড়োজাহাজ প্রকৌশল ইত্যাদি। প্রথম যেদিন থেকে উড়োজাহাজ চলা শুরু হয়েছে সেদিন থেকেই প্রয়োজন হয়েছে অ্যারোনেটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের। সময়ের সাথে ঘটছে এই শিল্পের বিকাশ। আর সাথে সাথেই বিশ্বজুড়ে ব্যাপকসংখ্যক ইঞ্জিনিয়ারদের প্রয়োজন পড়ছে প্রতিনিয়ত। আমাদের দেশে অবশ্য এই বিষয়টি অনেকের কাছেই নতুন মনে হতে পারে। কিন্তু উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে এই বিষয়টি অনেক আগে থেকেই আদৃত হয়ে আসছে। আমাদের দেশে বিষয়টি নিয়ে পড়ানোর সুযোগও তৈরি হয়েছে মাত্র কয়েকবছর হলো। এই বিষয়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় এখন সহজে এবং অল্প খরচেই বিষয়টি নিয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে শিক্ষার্থীদের। অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা রয়েছে বিশ্বজুড়েই। এয়ারলাইন্স শিল্পে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারের চাহিদা এত বেশি যে এই বিষয়ে পড়ালেখা করলে অনেক ক্ষেত্রেই পাশ করার আগেই চাকরির সুযোগ মিলে যেতে পারে। সাধারণ বিষয়ে পড়ালেখা করে যেখানে চাকরির জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হয় বছরের পর বছর, সেখানে পড়ালেখা শেষ হওয়ার আগে চাকরির হাতছানি নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়। এভিয়েশন সেক্টরের চাকরিতে রয়েছে উচ্চ বেতন, গ্ল্যামার, দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ। আর ক্যারিয়ারটা হবে আগামী দিনের উজ্বল স্বপ্নীল ক্যারিয়ার। এই বিষয়ে শিক্ষাক্রমে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য যুক্তরাজ্যের স্বনামধন্য শিক্ষাবোর্ড এডেক্সলের ডিগ্রি। আমাদের দেশে কলেজ অব এভিয়েশন টেকনোলজি (ক্যাটেক ) এডেক্সেলের অধীনে এএমই লাইন্স পেতে ন্যাশনাল ডিপ্লোমা (এনডি) এবং হায়ার ন্যাশনাল ডিপ্লোমা (এইচএনডি) ইন অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স পরিচালনা করছে। কলেজটির প্রথম ব্যাচের কয়েকশ শিক্ষার্থী ইংল্যান্ড, আমেরিকা, কানাডা, জার্মান, আয়ারল্যান্ডসহ উন্নত বিশ্বে চাকরি/ইন্টার্নি করতে চলে গেছে। তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীরা যাচ্ছে দু’এক মাস পরেই। এ বিষয়ে ০১৯৩৭১৮২৪৭০, ৮৯৯১৩৭১, ০১৯২৬৯৬৩৬৫৫ নম্বরে ফোন করে বিস্তারিত সব তথ্য জেনে নিতে পারবেন। এসএসসি/এইচএসসি, এ-লেভেল/ও-লেভেল সম্পন্নকারীরা এই কোর্সটি করতে পারবে। চার বছরে বাংলাদেশের সর্বসমাদৃত ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাবোর্ড বিটেক এডেক্সেলের অধীনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অনার্স ডিগ্রি অর্জন করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ১৮ মাসে সম্পন্ন হয় আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেট লেভেল থ্রি বা ন্যাশনাল ডিপ্লোমা (এনডি)। এর পরের ১৮ মাসে সম্পন্ন হবে লেভেল ফাইভ বা হায়ার ন্যাশনাল ডিপ্লোমা (এইচএনডি)। এরপর ফাইনাল ইয়ার বা চতুর্থ বছরে সম্পন্ন হবে টপআপ বিবিএ বা বিএসসি। এই কোর্স শেষ করে কেবল দেশেই নয়, সারাবিশ্বেই এভিয়েশন খাতে চাকরির উপযোগী হয়ে ওঠা যাবে। এই র্কোস শেষ করে শিক্ষার্থীরা চাইলেই ইংল্যান্ডের কভেন্টি, কিংস্টন, স্যালফোর্ড, ক্রেইনফিল্ড প্রভৃতি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের যেকোনো দেশের এডেক্সেল অনুমোদিত ইউনিভার্সিটিতে সহজে চূড়ান্ত বর্ষে ভর্তি হতে পারে। এর শিক্ষাপদ্ধতি অনেক সহজ। এ ছাড়া এই কোর্সে বিশ্বের ১৭৩টি দেশে ক্রেডিট ট্রান্সফার করার সুযোগ রয়েছে। ১৮ মাসের লেভেল থ্রি বা এনডি সম্পন্ন করতে সর্বমোট খরচ পড়বে ৩ লক্ষ টাকা। পরের ১৮ মাসের লেভেল ফাইভ বা এইচএনডি করতে খরচ হবে সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা। সর্বশেষ ১ বছরের টপ-আপ বিএসসি করতে খরচ প্রদান করতে হবে সরাসরি কিংস্টন ইউনিভার্সিটিকে। সেটা প্রদান করতে হয় সেমিস্টারভিত্তিতে টিউশন ফি হিসেবে। যোগাযোগ :কলেজ অব এভিয়েশন টেকনোলজি (ক্যাটেক), বাড়ি-১৪, রোড-২, সেক্টর-১১, উত্তরা, ঢাকা।