হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজে শিক্ষক সংকট

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০১৩, ২১:২৫
নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার একমাত্র সরকারি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজ। কিন্তু কলেজটিতে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষসহ শিক্ষকের ৫৪ পদের মধ্যে ৪১টি পদ শূন্য থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া কর্মরত ১২ জন শিক্ষকের মধ্যে ১০ জনই মাসের বেশির ভাগ সময় কর্মস্থলের বাইরে অবস্থান করছেন। ২০ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এ কলেজটিতে ৫টি বড় বড় ভবন তৈরি করা হলেও শিক্ষক স্বল্পতার কারণে কলেজের ভাবমূর্তি দিন দিন ম্লান হচ্ছে। কলেজ সূত্রে জানা গেছে, উপাধ্যক্ষের ১টি পদ, সহযোগী অধ্যাপকের ৫টি পদ, সহকারী অধ্যাপকের ১০টি পদ, প্রভাষকের ১৯টি পদ, গ্রন্থাগারিকের ১টি পদ, প্রদর্শকের ৪টি পদ ও শরীরচর্চা শিক্ষকের ১টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বাংলা, অর্থনীতি, গণিত, প্রাণীবিদ্যা, উদ্ভিদ বিদ্যা, পরিসংখ্যান ও ব্যবহারিক বিষয়ের কোন শিক্ষক নেই। হিসাব বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, ইসলামের ইতিহাস, ইতিহাস, দর্শন, পদার্থ ও রসায়ন বিষয়ে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ১ জন করে। অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগ, কর্মরত এসকল বিষয়ের শিক্ষকেরা মাস শেষে এসে বেতন উত্তোলন করে চলে যান। আবার কোন কোন শিক্ষকের বেতন অফিস কর্মচারীরা ডাকযোগে বা বিকাশের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন। ফলে কলেজটিতে শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অফিস কর্মচারীরা শিক্ষার্থীদের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন। এব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর দেবব্রত দাস গুপ্ত জানান, অচিরেই শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ করা না হলে কলেজটি শুধু কালের সাক্ষী হিসাবে দাঁড়িয়ে থাকবে। কর্মরত শিক্ষকদের অনিয়ম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে দেখা গেছে, শিক্ষকদেরকে চাপ প্রয়োগ করলে তাঁরা বদলির কাগজ নিয়ে চলে আসেন।