শেষ আটে চেলসি, ম্যান ইউ

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০১৩, ২২:১১
চেলসির কাছে নিজ মাঠে হারের পর আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার জানিয়েছেন, রক্ষণভাগের ভুলের কারণেই তার দল লিগ কাপ থেকে ছিটকে গেছে। গত মঙ্গলবার রাতে প্রতিযোগিতার চতুর্থ রাউন্ডে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ দলটিকে ২-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে কোচ হোসে মরিনহোর দল। অপরদিকে নরউইচ সিটিকে পরাজিত করে শেষ আটে পৌঁছে যায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। আর্সেনালের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে ম্যাচটি ছিল যেন ২০০৭ সালের ফাইনালের পুনরাবৃত্তি। সেবার চেলসি ২-১ গোলে জয়ী হয়ে শিরোপা জিতেছিল। এদিনও একই ব্যবধানে জিতে মরিনহোর দল আরেকবার তার পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েঙ্গারকে ছাড়িয়ে গেলেন। উভয় দলের মূল একাদশে ছিল বড় রকমের পরিবর্তন। এর মধ্যে স্বাগতিক দলে ছিল আটটি পরিবর্তন। অন্যদিকে গত রবিবার প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ী চেলসি শুধু গ্যারি কাহিলকে বাইরে রেখে দল সাজিয়েছিল। এ জয়ে নয়বারের চেষ্টাতেও মরিনহোর চেলসির বিরুদ্ধে জিততে পারলেন না ওয়েঙ্গার। স্প্যানিশ ফুলব্যাক সিজার আজ পিলিকুয়েটার গোলে ২৫ মিনিটেই এগিয়ে যায় চেলসি। আর্সেনালের রাইট ব্যাক কার্ল জেনকিনসন পেছনে হেড করলেও তা ঠিকমতো না হওয়ায় সেটি আয়ত্তে নিয়ে তা থেকে সিজার ভলি শটে গোলরক্ষক লুকাস ফ্যাবিয়ানসিকে পরাস্ত করেন। ৬৬ মিনিটে ডান পায়ের জোড়ালো শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হুয়ান মাতা। এটি তার চলতি মৌসুমের প্রথম গোল। স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার খেলা শেষে বলেন, ‘নিজেদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবার জন্য এই জয়টা বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই সপ্তাহে ম্যানচেস্টার সিটির পর আর্সেনালকে হারানোর কারণে আমরা নিজেদের শক্তিশালী মনে করছি। কারণ তারা উভয়ই বেশ ভাল দল।’ এই ফলাফলে দলের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরবে কিনা জানতে চাইলে আর্সেনাল কোচ বলেন, ‘না, কারণ এটি একটি ভিন্ন প্রতিযোগিতা। ম্যাচটি বেশ উত্তেজনামুখর ছিল। আমাদের ভুলগুলোর সুবিধা কাজে লাগিয়েছে।’ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইউনাইটেড জেভিয়ার হার্নান্দেজের জোড়া গোলে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে নরউইচ সিটিকে ৪-০ গোলে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে। নয়জন খেলোয়াড়কে বদল করে এদিন মূল একাদশ সাজান ইউনাইটেড কোচ ডেভিড ময়েস। কমিউনিটি শিল্ডের পরে এই প্রথমবারের মত ইংল্যান্ডের উইঙ্গার উইলফ্রিড জাহা প্রথম একাদশে সুযোগ পান। স্বাগতিক মিডফিল্ডার আদনান জানুজাকে নরউইচের মিডফিল্ডার লেরোয় ফার বক্সের মধ্যে ফাউল করলে রেফারী পেনাল্টির নির্দেশ দেন। ২৫ মিনিটে স্পট কিক থেকে গোলরক্ষক মার্ক বানকে পরাস্ত করেন হার্নান্দেজ। আলেকজান্দার বাটনারের ক্রস থেকে দ্বিতীয়ার্ধের নয় মিনিটে মেক্সিকান এই স্ট্রাইকার নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোল করেন। শেষদিকে ফিল জোনস ও ফ্যাবিও ডা সিলভা দুটি গোল করলে বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা। ইনজুরি টাইমে মাথায় আঘাত পাওয়া নরউইচের ফরোয়ার্ড রবার্ট স্নোডগ্রাসকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। শীর্ষ দলগুলোর মধ্যে একমাত্র ফুলহ্যাম এ রাউন্ডে পরাস্ত হয়। দ্বিতীয় সারির দল লিস্টারশায়ার সিটির কাছে ৪-৩ গোলে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেয় তারা। অপর ম্যাচে দুইবার পিছিয়ে পড়েও ২০১১ সালের চ্যাম্পিয়ন বার্মিংহ্যাম সিটি স্টোকের সাথে নির্ধারিত সময়ে ৪-৪ গোলের ড্র দিয়ে ভালভাবে লড়াই করেছিল। কিন্তু পেনাল্টি শ্যুট আউটে ৪-২ গোলে পরাজিত হয়ে শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয় বার্মিংহ্যামকে। -বাসস/এএফপি