প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া সংলাপে বসার আহ্বানে সাড়া দিয়ে হরতাল প্রত্যাহার করলেন না। হরতালের নামে এতোগুলো মানুষের জীবন নিয়ে তিনি কী অর্জন করলেন? এতো মানুষের লাশ ফেলে ও রক্ত নিয়ে, মানুষকে অন্ধ ও পঙ্গু করে দিয়ে তিনি কী পেলেন? আমার ডাকে সাড়া দিয়ে সংলাপে আসলে এতোগুলো মানুষের জীবন যেত না।
গতকাল বুধবার গণভবনে ঢাকা মহানগর, ঢাকা জেলা ও আশেপাশের জেলাসমূহের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও এসব এলাকা থেকে নির্বাচিত দলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে প্রারম্ভিক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, বিরোধীদলীয় নেত্রীর সঙ্গে যে টেলি সংলাপ হয় তা নিয়ে বিএনপির তরফ থেকে অনেক কিছু পেপারে দিয়ে দেয়া হয়। তবে পুরোটাই দিয়ে দেয়া দরকার। বিভ্রান্তি দূর করতে সব শোনা দরকার দেশবাসীর। তিনি বলেন, আমার ঝগড়া করার মানসিকতা ছিল না। তবে আমি আল্লাহ ও দেশের মানুষের কাছে দোয়া চাই যেন আমাকে আরো ধৈর্য দেয়। আমি নিজে যেচে বিরোধীদলীয় নেত্রীকে ফোন করে আমন্ত্রণ জানালাম। জবাবে টেলিফোনে আমাকে অনেক অপমান সহ্য করতে হয়েছে। দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে অনেক অবান্তর কথা শুনেছি।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে টেলি সংলাপ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, টেলিফোনে বিরোধীদলীয় নেতা যেসব বিষয়ে কথা বলেছেন, তার সবকিছুরই জবাব তাঁর কাছে রয়েছে। তিনি একেক সময় একেক কথা বলেছেন, একেক রকম শর্ত দিয়েছেন। আমি ধৈর্য ধারণ করেছি। উনার সব কথারই জবাব ছিল, কিন্তু দেইনি। কারণ আমি চেয়েছিলাম সমঝোতার পথ, শান্তির পথ, সমাধানের পথ। কিন্তু উনি তা মানলেন না।
আগামী ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আহূত আওয়ামী লীগের জনসভাকে স্মরণকালের বৃহত্তম জনসমুদ্রে পরিণত করার কৌশল নির্ধারণেই এ বৈঠকটি ডাকা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সিনিয়র নেতারা ওই দিনের জনসভাকে সফল করার জন্য নিজ নিজ এলাকা থেকে সাধ্যমত জনসমাগম নিশ্চিত করার জন্য দলের সংসদ সদস্য ও জেলার নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। পরে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে নির্বাচন, বিরোধী দলের আন্দোলন মোকাবিলাসহ বেশকিছু নীতিনির্ধারণী বিষয়ে সংসদ সদস্যদের দিক-নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কেউ যাতে নস্যাত্ করতে না পারে সেজন্য সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আমরা সংবিধান সংশোধন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিরোধী দলের নেতাকে আমন্ত্রণ জানালাম, উনি আমাকে দিলেন একের পর এক শর্ত। বলা হলো ২৫ অক্টোবরের পর নাকি উনিই (খালেদা জিয়া) দেশ চালাবেন! প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর জেনারেল জিয়াউর রহমানের সময় ১৯টি ক্যু হয়েছিল। একেকটা ক্যুর পর শত শত সামরিক অফিসার ও সৈনিককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। ১৯৭৭ সালে শুধু বিমান বাহিনীরই ৬৬২ জন অফিসারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তিনি হত্যা করেছিলেন। হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতিই হচ্ছে তাদের নীতি।
প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্যের পর তার সভাপতিত্বে নেতৃবৃন্দের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ হোসেন এবং নগর সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে করণীয় বিষয়গুলো দলীয় সংসদ সদস্য ও জেলার নেতাদের অবহিত করেন।
সূত্র জানায়, সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বাত্মক নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামার জন্য দলের সংসদ সদস্য ও দলের নেতাদের নির্দেশ দেন।
বৈঠকে আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি প্রমুখ।
