তদন্তে দুই কমিটি

এক বালিশ ৬ হাজার টাকা!

আপডেট : ২০ মে ২০১৯, ০০:৪০

দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহারের জন্য একটি বালিশ কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকায়। আর সেই বালিশ নিচ থেকে কক্ষে উঠাতে ব্যয় করা হয়েছে ৭৬০ টাকা। অর্থাত্ একটি বালিশের পিছনে ওই প্রকল্পের ব্যয় ৬ হাজার ৭১৭ টাকা।

এ ছাড়া কর্মকর্তাদের বসবাসের জন্য নির্মিত গ্রিণসিটিতে আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র কেনা এবং ফ্ল্যাটে ওঠাতে ব্যয় করা হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা। প্রকল্পের সব কর্মকর্তা, গাড়িচালকের পদেও অস্বাভাবিক বেতন-ভাতা ধরা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালকের বেতন ধরা হয়েছে মাসে চার লাখ ৯৬ হাজার টাকা। তিনি যদি ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন, এজন্য আরও দুই লাখ টাকা পাবেন। সব মিলিয়ে প্রকল্প পরিচালক পাবেন ছয় লাখ ৯৬ হাজার টাকা। এছাড়া গাড়িচালকের বেতন ধরা হয়েছে ৭৩ হাজার ৭০৮ টাকা, রাঁধুনি আর মালির    বেতন ৬৩ হাজার ৭০৮ টাকা।

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ভবনের আসবাবপত্র ও বালিশ কেনাসহ অন্যান্য কাজের অস্বাভাবিক এই খরচের গোমর ফাঁস হতেই নড়েচড়ে বসেছে মন্ত্রণালয়। যদিও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এই কাজে সংশ্লিষ্ট নয়। অবশ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনের গণপূর্ত অধিদপ্তর সরাসরি ওই কাজে জড়িত।

এদিকে গতকাল রবিবার প্রকল্পের এই অস্বাভাবিক খরচ তদন্তে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় দুটি কমিটি গঠন করেছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে পৃথক এ কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সব প্রকার বিল বন্ধ রাখার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ডেলিগেটেড ওয়ার্ক হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তর নির্মাণাধীন ৬টি ভবনে আসবাবপত্রসহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্য দাপ্তরিক প্রাক্কলন প্রণয়নপূর্বক ৬টি প্যাকেজে ই-জিপিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্যাকেজের প্রতিটির ক্রয়মূল্য ৩০ কোটি টাকার নিম্নে প্রাক্কলন করায় অনুমোদন ও ঠিকাদার নিয়োগ দেয় গণপূর্ত অধিদপ্তর। আলোচ্য কাজের বিপরীতে এখনো ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধ করা হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের আলোকে বাজার মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

দুর্নীতির তদন্ত চেয়ে

হাইকোর্টে রিট

এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ প্রকল্পে দুর্নীতি নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। গতকাল রবিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ সংক্রান্ত রিটটি দায়ের করেন। রিটকারী বলেন, পত্রপত্রিকায় দেখেছি কেনাকাটায় যে অস্বাভাবিক মূল্য ধরা হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত কমিটি হয়েছে। সেই কমিটির প্রতি জনগণের বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। তাই আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়েছি। তিনি বলেন, প্রত্যেক কাজের একটা জবাবদিহিতা থাকা দরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছেন। এই প্রকল্পে যে টাকা খরচ দেখানো হয়েছে তা এ দেশের জনগণের করের টাকা। এর জবাবদিহিতা থাকা উচিত।

প্রসঙ্গত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের গ্রিনসিটি প্রকল্পের ১১০ ফ্ল্যাটের জন্য অস্বাভাবিক মূল্যে আসবাবপত্র কেনা ও ভবনে উঠানোর ঘটনা নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে।