জাতীয় সংসদে সম্প্রতি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে নতুন করে অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মনোনয়ন না পেয়ে দল ত্যাগ করে কে অন্য দলে চলে যেতে পারে তা নিয়ে দলনেতারা রয়েছেন দুশ্চিন্তায়।
আগে সংবিধানে ছিল, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসাবে তিন বছর মেয়াদ পূর্ণ না হলে যে কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য হবেন। এতে দল থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত কোন নেতার ওই দল ত্যাগ করে অন্য কোন দলে গিয়ে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত বাধা ছিল। ২০০৯ সালে সংসদে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করে এই আইন পাস হয়। কিন্তু গত সোমবার জাতীয় সংসদে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করে সেই বাধা তুলে নেয়া হয়েছে। এতে এখন কোন রাজনৈতিক দলের প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেই যে কোন ব্যক্তি আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন। এরপর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে শুরু হয়েছে সন্দেহ, অবিশ্বাস। আর নির্বাচনে প্রার্থী আগ্রহীদের দৌড়-ঝাঁপও বেড়ে গেছে।
দিন যতই যাচ্ছে স্পষ্ট হয়ে উঠছে কোন আসনে কে মনোনয়ন পাবেন। কার ভাগ্যে শিকে ছিঁড়বে শীর্ষ নেতৃত্ব ছাড়া কেউ জানে না। ফলে ওইসব আসনে আরো যারা মনোনয়ন পেতে আগ্রহী তাদের কেউ কেউ ইতিমধ্যে অন্য দলের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ শুরু করেছেন। এই নিয়ে সব দলের ভেতরেই নজরদারি শুরু হয়েছে কোন নেতা কোথায় যাচ্ছেন, কি করছেন। শুধু বড় দলেই নয় ছোট দলও এ নিয়ে স্বস্তিতে নেই।
যতই আন্দোলন চলুক না কেন মনোনয়ন প্রত্যাশী রাজনীতিকরা সবাই ভিড় জমাচ্ছেন রাজধানীতে। নীতি নির্ধারকদের বাড়িতে বাড়িতে প্রতিদিনই চলছে দেন দরবার। নিজের লবিং জোরালো করতে চলছে প্রাণপণ চেষ্টা। মনোনয়নের ব্যাপারে নিজ নিজ দলের হাইকমান্ডে নিজেদের জনপ্রিয়তা প্রমাণে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। পাশাপাশি নিজ আসনে মনোনয়ন পাবেন কি না সে ব্যাপারেও নিশ্চিত হতে চাইছেন। কারণ, যদি নিজ দলে জায়গা না হয় তাহলে অন্য কোন দলে স্থান পাকা করার সময় বের করতে সক্রিয় নেতারা। তবে এ সব তত্পরতাই চলছে গোপনে। কেউই কারো কাছে মুখ খুলছেন না।
উল্লেখ্য, এক দল ছেড়ে অন্য দলে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোন বাধা না থাকায় ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে অনেক নেতাই জার্সি বদল করে প্রতিপক্ষ শিবিরের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছিলেন। ১৯৯১ সালে এম কে আনোয়ার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভের আশায় দৌড়ঝাঁপ করেছিলেন। পরে বঞ্চিত হয়ে তিনি বিএনপির মনোনয়ন নেন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ব্যবসায়ী এ কে এম আবু তাহের আওয়ামী লীগের সখ্যতা ছিল। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান পরে মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপির মনোনয়ন লাভ করেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা কোরবান আলী হঠাত্ করে দল ছেড়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
