যশোর পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামকে গুলি করে ও বোমা হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। ঠিক একমাস আগে ২৮ সেপ্টেম্বর গুলিবিদ্ধ হবার একমাসের মাথায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় শহরের মনিহার এলাকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে থাকা অবস্থায় সন্ত্রাসীরা নজরুল ইসলামের উপর এই হামলা চালায়। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর সকাল থেকেই নজরুল সমর্থকরা মনিহার এলাকায় রাস্তার উপর টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তিনি টায়ার-টিউব ব্যবসায়ী সমিতিরও সভাপতি ছিলেন। ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের সময় বন্ধ হয়ে যায় আশেপাশের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পুলিশ নজরুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ২টি মোটর সাইকেলে ৪ জন সন্ত্রাসী মনিহার তালতলা এলাকায় নজরুল ইসলামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চড়াও হয়। তাদের সবার মাথায় হেলমেট পরা ছিল। এ সময় ঢাকা রোড ধরে মোল্লাপাড়া এলাকা থেকে ৭-৮ জন সন্ত্রাসী পায়ে হেঁটে এসে তাদের সাথে যুক্ত হয়। সন্ত্রাসীরা নিজ দোকান আকাশ টায়ার হাউজে বসে থাকা নজরুল ইসলামকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি করে। বুকে পিঠে গুলিবিদ্ধ নজরুল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা তার পেটে ধারালো অস্ত্র ঢুকিয়ে দেয় এবং একইসাথে পেট লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করে। বোমার স্প্লিন্টারে তার নাড়িভুড়ি ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা বেশ কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি করে। প্রকাশ্যে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও আশেপাশের লোকজন এগিয়ে না আসায় সন্ত্রাসীরা বীরদর্পে এলাকা ত্যাগ করে। বুধবার সকালে ময়না তদন্ত শেষে নজরুল ইসলামের লাশ নিয়ে শহরে বিক্ষোভ করেছে তার কর্মী সমর্থকরা। দুপুরে বারান্দীপাড়া জামে মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে তার লাশ আনা হয় জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে। এখানে নেতৃবৃন্দ কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে তার লাশ দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় মুন্সীগঞ্জের হাসাইল টঙ্গীবাড়িতে।
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই কাল হলো আওয়ামী লীগ ও ব্যবসায়ী নেতা নজরুল ইসলামের। ২৯ সেপ্টেম্বর শহরের মনিহার ও রবীন্দ্রনাথ সড়ক এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী মিছিল হয় তার নেতৃত্বে। ওইদিনই নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। সেবার পায়ে গুলি লাগলেও প্রাণে রক্ষা পান তিনি। সুস্থ হয়ে তিনি যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তার ওপর হামলাকারীদের নাম প্রকাশ করেন। তিনি এ সময় সন্ত্রাসীদের নাম উল্লেখ করে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা করেন। কোতয়ালী মডেল থানার ওসির উদ্ধৃতি দিয়ে হামলাকারীর নাম উল্লেখ করে ৩০ সেপ্টেম্বরের ইত্তেফাকে রিপোর্টও প্রকাশিত হয়।
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা : সন্ত্রাসীদের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা হলেও একমাসে একজনকেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের নিষ্ক্রিয় অবস্থানের কারণেই সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবেই তাকে হত্যা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক ইত্তেফাককে বলেন, ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায় না। কিন্তু তদন্ত করতে করতে তো হামলার শিকার ব্যক্তি দ্বিতীয় দফা হামলায় প্রাণই দিলেন— এমন প্রশ্নের জবাবেও তিনি একই কথার পুনরাবৃত্তি করেন।
