তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি নাশকতার পরিকল্পনা পরিহার করে শর্তহীনভাবে খোলা মনে সংলাপের টেবিলে বসার আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নির্দলীয় সরকারের আবদার তুলে নিয়ে সংলাপে বসুন, অন্যথায় নির্বাচনের ট্রেন ফেল করবেন। তিনি আরো বলেন, দেশে আজ শক্তিশালী গণমাধ্যম রয়েছে, তার সামনে কোনো কারচুপি চলবে না। দেশে নাশকতা-সন্ত্রাস উসকে দেয়ার জন্য তথ্যমন্ত্রী বিরোধী দলীয় নেত্রীর প্রতি অভিযোগের আঙ্গুল তুলে বলেন, ‘এগুলো বন্ধ না করলে জনগণ আপনাকে নাশকতার রানী, সন্ত্রাসের রানী বলবে।’
চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট (টিআইসি) মিলনায়তনে গতকাল বুধবার দুপুরে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর আয়োজিত ‘শান্তি উন্নয়ন ও গণতন্ত্র’ শীর্ষক গণসংলাপ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত জোটকে বিরাট হুমকি আখ্যায়িত করে বলেন, ‘এখনো আমরা তেঁতুল হুজুরদের শায়েস্তা করতে পারিনি, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে পারিনি।’ তবে যুদ্ধাপরাধের কলংক থেকে বাংলাদেশকে অবশ্যই মুক্ত করা হবে। হাসানুল হক ইনু মাওলানা আল্লামা শফিসহ ইমাম, আলেম ও ওলামাগণকে সমাজের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আখ্যায়িত করে বলেন, তারা যেন এমন কিছু না করেন যাতে মানুষ তাদের ‘কলা হুজুর’ বলে।
যে বিরোধী দলীয় নেত্রী জনসভায় আলটিমেটাম দিয়ে সময় শেষ হওয়ার আগেই হরতাল দিয়ে বসেন, তার সাথে কিভাবে আলোচনা সম্ভব- এমন প্রশ্ন তুলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি জাতির সাথে বেঈমানি করে হরতাল পালন করলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে যেই সরকারই গঠন করা হোক না কেনো সংবিধান অনুসারে নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন, তাতে সহায়তা করবে প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ।
দেশে দুই নেত্রীর মধ্যে অনুষ্ঠিত ফোন সংলাপ গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো কোনো সংবাদ মাধ্যমে ওই আলাপের আংশিক প্রকাশিত হয়। এতে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছিলো। তাই প্রশ্ন ওঠে, যদি সেটি প্রকাশিতই হবে তাহলে পুরোটাই প্রকাশিত হোক। তবে সরকার এই ফোনালাপ সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করেনি। আর এটা বেআইনী কাজ হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি বেআইনী হয় তবে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
তথ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, দেশে যে সব সংবাদপত্রের মালিক সাংবাদিক-কর্মচারীদের অষ্টম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করেননি, অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের সুযোগ-সুবিধা কেটে দেয়া হবে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ইসলামী ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক শামিম মোহাম্মদ আফজাল খান, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তছির আহাম্মদ।
