হরতালকে কেন্দ্র করে পুলিশের ৭০ মামলা

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫৬
রাজধানীতে মন্ত্রী, বিচারপতি ও সংসদ সদস্যের বাসভবন, পুলিশ কর্মকর্তার অফিসসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বাসভবনে ককটেল হামলা এবং গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় বিভিন্ন থানায় ৭০টি মামলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজধানীতে ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে এসব মামলা দায়ের করেছেন। মামলাগুলোতে প্রায় দুইশ’ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। প্রতিটি মামলায় গড়ে ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, শনিবারের সহিংস ঘটনায় বিভিন্ন স্থানে ১১টি ককটেলসহ ৩১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ১৮ দলের ৬০ ঘন্টার হরতালের প্রথম দিন রবিবার গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে ১১ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৬ মাসের সাজা দিয়েছে। হরতালের দ্বিতীয় দিন ৫৮ জন গ্রেফতারের মধ্যে ১৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়। হরতালের শেষ দিনে আরো ৪১ জন গ্রেফতার হন। পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার জানান, তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, আদাবর ও শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায় সহিংস ঘটনায় ৭টি মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলায় ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, প্রত্যেক সহিংস ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গড়ে ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলায় আসামি হিসাবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার সরদার মারুফ হাসান বলেন, ভিআইপিদের বাসভবনে ককটেল হামলা, গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও সরকারি সম্পদ নষ্টের অভিযোগে দায়ের করা মামলাগুলোতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাত ২শ’ বা ৩শ’ জনকে আসামি করা হয়নি। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ও বোমা নিস্ক্রিয়করণ ইউনিটের পরিচালক মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, মতিঝিল ও লালবাগ এলাকায় সবচেয়ে বেশি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। প্রত্যেকটি বিস্ফোরণ ঘটনার আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত করা হচ্ছে। ককটেল তৈরিতে ব্যবহূত কাঁচামালের উত্স শনাক্ত করার পাশাপাশি বিস্ফোরণে কারা জড়িত সে বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই ৫ দিনে রাজধানীতে সংসদের উপ-নেতা সাজেদা চৌধুরী, আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদ, দুদক চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান, বিচারপতি এস কে সিনহা, প্রাইভেটাইজেন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মির্জা জলিল, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য শাহিদা তারেক দিপ্তী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, জাতীয় পার্টি (এ) প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দীন অসীম, যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুকের ধানমণ্ডি কার্যালয় ও যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের বাসাসহ শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বাস ভবন লক্ষ্য করে ককটেল হামলা চালানো হয়।