বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে প্রায় ৪০ দেশের শীর্ষ কূটনীতিকদের কাছে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে কূটনীতিকদের সামনে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। প্রায় ১ ঘণ্টা স্থায়ী এ ব্রিফিংয়ের শুরুতে সাড়ে তিন মিনিটের একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ভিডিওচিত্রে মূলত গত ২৫ অক্টোবরের সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার কর্মসূচির ঘোষণা, দুই নেত্রীর ফোনালাপের কিছু অংশ ও তিনদিনের টানা হরতালে সহিংস কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়।
ভিডিওচিত্র প্রদর্শন শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রী কূটনীতিকদের বলেন, সরকারের মেয়াদ নিয়ে বিভিন্ন মহলে অহেতুক বিকর্ত হচ্ছে। সংবিধান অনুযায়ী উত্তরসূরি দায়িত্বগ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভা বহাল থাকবে। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সংসদের মেয়াদ আগামী ২৪ জানুয়ারি পূর্ণ হবে এবং সেই সঙ্গে সংসদও বিলুপ্ত হবে। এই সময়ের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন সে অনুযায়ী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। নির্বাচনকালীন সরকারের জন্য প্রধানমন্ত্রী একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন যাতে বিরোধীদলের অন্তর্ভুক্তির আহবান জানান। এজন্য বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সংলাপে বসার উদ্যোগ নেন। কিন্তু তারা সে উদ্যোগে সাড়া না দিয়ে ৬০ ঘণ্টার হরতাল পালন করেছে। এতে অসংখ্য হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী এখনো আলোচনার সুযোগ রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, আগামী নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য আমরা বিদেশি কূটনীতিকদের স্বাগত জানাই। এ সময় এইচ টি ইমামও নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট সংকট, সহিংসতার বিষয়ে সরকারের অবস্থানের কথা কূটনীতিকদের অবহিত করেন।
ব্রিফিং শেষে দীপু মনি সাংবাদিকদের বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট সংকট ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব, দুই নেত্রীর ফোনালাপ, বিরোধী দলের হরতাল ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, হরতাল ও বিরোধী দলের সহিংস কর্মকাণ্ডে বিদেশি কূটনীতিকরা উদ্বিগ্ন। তারা আশা করেন, বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে। দুই নেত্রীর মাঝে সংলাপ হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে গণতন্ত্র এগিয়ে যাবে।
সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের নানা তত্পরতার বিষয়ে তিনি বলেন, কূটনীতিকদের অবশ্যই শিষ্টাচারের মধ্যে থেকে তত্পরতা চালানো উচিত। বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনার সাম্প্রতিক নয়াদিল্লি সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নীতি রয়েছে। সে বিষয়ে হয়তো আলোচনার জন্য ড্যান মজীনা দিল্লিতে গিয়েছিলেন। তবে বাংলাদেশ নিয়ে তাদের কোনো উদ্বেগ বা বক্তব্য থাকলে শিষ্টাচারের মধ্যে থেকে আমাদের সামনে তুলে ধরা উচিত।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত কূটনীতিকদের মধ্যে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মজীনা সাংবাদিকদের বলেন, দুই নেত্রীর প্রস্তাবকে স্বাগত জানাই। আশা করি তাদের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে চলমান সংকটের সমাধান বেরিয়ে আসবে। সংলাপে সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের জন্যও তিনি ধন্যবাদ জানান।
কূটনীতিকদের ব্রিফিংয়ে চীনা রাষ্ট্রদূত লি জুন ও কানাডার হাইকমিশনার হিদার ক্রুডেন বক্তব্য রাখেন। তারা চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সংকট নিরসনে তারা দুই দলের সমঝোতার উপর জোর দেন।
