বিক্ষিপ্ত সহিংসতায় শেষ হলো ভোটযুদ্ধ

আপডেট : ২০ মে ২০১৯, ০০:৪১

বিক্ষিপ্ত সহিংসতা ও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ত্রুটির মধ্য দিয়ে শেষ হলো ভারতের লোকসভা নির্বাচনের শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ। গতকাল রবিবার আটটি রাজ্যের ৫৯ আসনে ভোটগ্রহণ হয়। এসব আসনে ভোটার ছিলেন ১০ কোটি ১৭ লাখেরও বেশি এবং প্রার্থী ছিলেন ৯১৮ জন।

গতকাল স্থানীয় সময় সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত উত্তর প্রদেশের ১৩টি, পাঞ্জাবের ১৩টি, পশ্চিমবঙ্গের ৯টি, বিহারের ৮টি, মধ্য প্রদেশের ৮টি, হিমাচল প্রদেশের ৪টি, ঝাড়খন্ডের ৩টি ও চন্ডীগড়ের ১টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। গতকালের ভোটে ভাগ্য নির্ধারিত হচ্ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবি শঙ্কর, বিজেপির প্রার্থী অভিনেত্রী কিরণ খের, অভিনেতা সানি দেওল, লোকসভার সাবেক স্পিকার মিরা কুমার, কংগ্রেসের প্রার্থী অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহা, মমতা ব্যানার্জির ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জি, অভিনেত্রী নুসরত জাহান, ঝাড়খন্ডের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শিবু সোরেন এবং পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সুখবীর সিং বাদলের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীর। আগামী ২৩ মে লোকসভা নির্বাচনের ভোট গণনা হবে। ওইদিন বিকালেই বোঝা যাবে ভারতের জনরায় কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষে। তবে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হতে পারে পরদিন।

ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে গতকাল বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষিপ্ত সহিংসতার ঘটনা ঘটে। গতকাল দুপুরে পাঞ্জাবের ভাটিন্ডার তলবন্ডী সাবোতে বুথের বাইরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় একজন আহত হন। বিহারের পাটলিপুত্র লোকসভা আসনের পালিগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পশ্চিমবঙ্গের কাঁকিনাড়ায় গতকাল ছিল বিধানসভা আসনের উপ-নির্বাচন। সেখানে দুপুরের পর বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। আহত হন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মদন মিত্র। বোমা হামলার ঘটনা ঘটে মথুরাপুরে। গতকাল কলকাতায় ভোট দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। অসুস্থতার কারণে ভোট কেন্দ্রে গিয়েও ভোট দিতে পারেননি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। ভোট দিয়েছেন অভিনেত্রী ও তৃণমূল প্রার্থী নুসরত জাহান, দেব, বিজেপি প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয়। 

অন্যদিকে উত্তর প্রদেশের চান্দৌলিতে বিজেপির বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ উঠেছে। ওই এলাকার জীবনপুর গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, গ্রামের তিনজন লোক জোর করে তাদের আঙুলে ভোটের কালি লাগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের প্রত্যেকের হাতে ৫০০ রুপি গুঁজে দেয়। তিনজনই বিজেপির লোক।

কেন ফলে বিলম্ব??

আগামী ২৩ মে সকালে ভোট গণনা শুরু হবে। দুপুরের পর থেকে স্পষ্ট হতে শুরু করবে ফলাফলের গতি-প্রকৃতি। ভারতের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের পদ্ধতির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল ভারতের বিরোধী দলগুলো। তাই প্রতিটি ইভিএম যন্ত্রের সঙ্গে থাকছে একটি ভিভিপ্যাট যন্ত্র। ভোটার ভোট দিলেই ওই যন্ত্র থেকে একটি স্লিপ বের হয়ে আসে। তাতে লেখা থাকে ভোটার কাকে ভোট দিলেন। তারপর স্লিপটি যন্ত্রে ঢুকে যায়। গণনার সময় প্রতিটি লোকসভা আসনের আওতায় থাকা বুথগুলির মধ্য থেকে ৩৫ থেকে ৪০টি বুথের ইভিএম বেছে নেওয়া হবে লটারির মাধ্যমে। তারপর সেই স্লিপগুলি গোনা হবে। তারপর মিলিয়ে দেখা হবে যে, যন্ত্রের সঙ্গে যে ভিভিপ্যাট যুক্ত ছিল সেটির সঙ্গে স্লিপের হিসেব মিলছে কি না। তারপর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে। বাড়তি এই প্রক্রিয়ায় ৪ থেকে ৭ ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। তাই চূড়ান্ত ফল প্রকাশে বিলম্ব হতে পারে।

মোদির বিরুদ্ধে বিধি ভঙের অভিযোগ করে কমিশনকে চিঠি তৃণমূলের

লোকসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোটের দিনও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পাঠানো এক চিঠিতে রাজ্যসভায় তৃণমূল সংসদীয় দলের নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন লিখেছেন, শেষ দফার ভোটের প্রচার গত ১৭ মে সন্ধ্যা ৬টায় শেষ হয়ে গেলেও, গত দুইদিন ধরে গণমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদির কেদারনাথ যাত্রা ঢালাওভাবে প্রচার হচ্ছে। এটা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে। এটা বন্ধ করতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিন। প্রসঙ্গত, শনিবার ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২ হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত কেদারনাথ মন্দিরে ধ্যানে বসেন মোদি। ভারতের বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, রবিবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে শুক্রবার থেকেই বন্ধ রয়েছে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা; কিন্তু কেদারনাথ মন্দির সংলগ্ন গুহায় ধ্যানকে হাতিয়ার করে এ সময়ে টিভি পর্দায় হাজির হয়েছেন মোদি। এর মধ্য দিয়ে তিনি ভোটারদের একটা ভিন্ন বার্তা দিতে চেয়েছেন। ধ্যান শুরুর আগেই ধ্যানের দৃশ্য ধারণে সেখানে ক্যামেরা সেট করেছেন তিনি। আর সেটাই টিভি পর্দায় দেখিয়ে নিজেকে ধার্মিক হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করেছেন তিনি।