জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘স্পা’

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫৩
আমাদের সমাজে নতুন কিছু এলে মানুষ সহজে গ্রহণ করে না। এর পক্ষে-বিপক্ষে কথা বলা শুরু হয়। তবে সময়ের দাবি উপেক্ষা করতে পারে না কেউ-ই। তাই সময়ের দাবি পূরণ করে আজ দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘স্পা’। অভিজাত জীবন-যাপনে অভ্যস্ত নয় এমন সাধারণ মানুষও আজ ‘স্পা’ করাচ্ছেন নিজেদের নতুন রূপ আর উদ্যোমের নেশায়। তবে এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে বিয়ের বর-কনে। বিয়ে ঘিরে মানুষের নানা পরিকল্পনা থাকে। সেই পরিকল্পনার অনিবার্য অংশ হয়ে উঠছে আজ ‘স্পা’। বলছিলেন দেশে ‘স্পা’ সেবা প্রদানকারী অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ‘হারমণি স্পা’র কর্ণধার রাহিমা সুলতানা রিতা। তার এখানে সেবা নিতে এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী রিনা পারভিন (২২)। রিনা জানান, কয়েকদিন পর তার বিয়ে। অনেকের কাছে তিনি শুনেছেন বিয়ের আগে ‘স্পা’ করানো নাকি ভালো। মূলত সে কারণেই তার এখানে আসা। রূপ বিশেষজ্ঞদের মতে, একজনমানুষের জন্য বিয়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিয়ের কনের সৌন্দর্য হতে হবে সবার চেয়ে আলাদা। হবু বর-কনে উভয়েই সাধারণত মানসিক ও শারীরিক চাপে থাকেন। সেই চাপ দূর করতে প্রয়োজন ‘স্পা’। এটি যেহেতু দৈনন্দিন জীবনের পরিশ্রম, শরীর ও মনের ক্লান্তি দূর করে মানসিক ও শারীরিক প্রশান্তি দেয়, সেই জন্য প্রত্যেককেই বিয়ের আগে ‘স্পা জার্নি’ সম্পন্ন করা জরুরি বলে তারা মনে করেন । দেশে ‘স্পা’ সেবা গ্রহণকারীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এই ধরনের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। ‘হারমণি স্পা’র পর পারসোনায় ‘স্পা’ সেবা চালু হয়। রেডিসন হোটেলে প্রথম ছেলেদের জন্য ‘স্পা’ চালু করা হয়। তারপর একে একে ওমেন্স ওয়ার্ল্ড, সামরান, রিরা স্পাসহ দেশের পাঁচ তারকা হোটেলগুলো দিতে শুরু করে ‘স্পা’ সেবা। ‘ওমেন্স ওয়ার্ল্ড’র অন্যতম রূপ বিশেষজ্ঞ কনা আলম মনে করেন, বিয়ের আগে ‘স্পা’ সেবা নিতে আজ পার্লারমুখো হচ্ছে উচ্চবিত্ততো বটেই, মধ্য ও নিম্মমধ্যবিত্ত মানুষও। দেশে ‘স্পা’ গ্রাহকের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। দুই থেকে ২০ হাজার টাকা ব্যয় করে সজীব আর সুন্দর হওয়াই আধুনিক স্পার মূলমন্ত্র। যা বিয়ের আগে খুবই প্রয়োজন। তিনি বলেন, সঞ্জিবনী শক্তি, সজিব-স্নিগ্ধ পরিবেশ, সুরের মূর্ছনা, সুষম আহার আর রূপর্চচার বিশেষ পদ্ধতি ‘স্পা’ কনেকে করে তোলে ভেতর থেকে সুন্দর। মাসাজ, ফেসিয়াল, হেয়ার স্পা ট্রিটমেন্ট, প্যাডিকিউর, ম্যানিকিউর করে কনে হয়ে উঠে সম্পূর্ণা। কনা বলেন, তারা ‘স্পা’র জন্য ‘থাই প্রসেস’ (পদ্ধতি) ব্যবহার করেন। হাতের কাছে থাকা শঙ্খ, চন্দন, চন্দন তেল, অলিভ ওয়েল মাসাজ কনের রক্ত চলাচলকে স্বাভাবিক গতি দেয়; ফলে তার লাবণ্য বেড়ে যায়। তারপর চলে প্যাক ব্যবহার। এই প্যাকও সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি। তিনি বলেন, আমরা পুরো শরীরের কান্তি আর পরিশ্রমের ছাপ তুলে ফেলতে ‘বডি র্যাপিং’ করে থাকি। মূলতানি মাটি গোলাপ জলের সাথে ভেষজ তেলের সমন্বয়ে তৈরি প্যাক লাগানো হয় সারা শরীরে। তারপর তাকে বিশেষ র্যাপিং পেপারে মোড়ানো হয়। কোথাও কোথাও র্যাপিং বা মোড়ানোর জন্য কলাপাতা বা পাতলা কাপড় ব্যবহার করা হয়। এসময় কোমল সুরের দোলায় কিছুক্ষণের জন্য গ্রাহক চলে যান অন্য কোন ভুবনে। যখন ফিরে আসেন তখন তার জন্য অপেক্ষা করে গোলাপের পাপড়ি ভেজানো উষ্ণ জলের স্নান। কনের রূপর্চচার কথা মাথায় রেখে ‘হারমণি স্পা’ দিচ্ছে ‘স্পা ব্রাইডাল প্যাকেজ’ সেবা। এছাড়া বিয়ের আগে ও পরে দুই সময়ের জন্য তারা দিচ্ছে ‘আর্য়ুবেদিক ব্রাইডাল প্যাকেজ’। কনের জন্য একদিন থেকে এক মাসের এই প্যাকেজ ‘স্পা’ সেবা পাওয়া যাচ্ছে রাজধানীর অন্যান্য ‘স্পা’ সেন্টারেও। প্রসঙ্গত, ‘স্পা’ হচ্ছে এক ধরনের জল চিকিত্সা পদ্ধতি; যেখানে জলের সঙ্গে সুগন্ধী, দুধ, মধুসহ কিছু ভেষজ উপকরণ মিশিয়ে শরীর ও মনের সুস্থতা নিশ্চিত করা হয়।